জঙ্গি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েই সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযান শুরু করতে বাম যুব ও ছাত্রেরা।

রাজ্যে কর্মসংস্থান, নতুন শিল্প তৈরি, কাজ না পাওয়া অবধি বেকার ভাতার ব্যবস্থা এবং কম খরচে পড়াশোনার সুযোগের দাবিতে দু’দিনের ওই অভিযানের ডাক দিয়েছে ১২টি বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠন। নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে একাধিক বার চিঠি পাঠিয়েছিল তারা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের অন্য কারও সময় পাওয়া যায়নি। সিঙ্গুর থেকে হাওড়া হয়ে নবান্ন পর্যন্ত পদযাত্রার জন্য হুগলি, হাওড়া বা রাজ্য পুলিশের কোনও সম্মতিও এখনও মেলেনি। পুলিশ-প্রশাসনের কোনও অনুমতি ছাড়াই কাল, বৃহস্পতিবার সিঙ্গুর থেকে অভিযান শুরু হবে এবং পুলিশ বাধা দিলে রাস্তায় লড়াই হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাম যুব নেতৃত্ব।

নবান্ন অভিযানের আগে রাজ্য জুড়ে চাকরির প্রতীকী আবেদনপত্রে তরুণ-তরুণীদের সই সংগ্রহ করা হয়েছে। সিঙ্গুরে তিন রাত্রি কাটিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় এবং সই সংগ্রহ করেছে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। নন্দীগ্রাম এবং পাহাড়েও এই কর্মসূচি ঘিরে সাড়া মিলেছে ভালই। গোটা রাজ্য থেকে পাওয়া আবেদনপত্র বস্তাবন্দি করে ট্যাবলোয় চাপিয়ে শুক্রবার নবান্নের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি। দীর্ঘ দিন পরে যুব ও ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে পুরোপুরি তাদের হাতেই। সিপিএমের কোনও প্রথম সারির নেতা সিঙ্গুর বা হাওড়ায় বক্তৃতা করতে যাচ্ছেন না।

ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ মিত্র ও রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, ‘‘চিঠি দিলেও পুলিশ এড়িয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও জবাব আসেনি। বেকারদের সমস্যা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই! আমরা ১২ তারিখ সিঙ্গুর থেকে অভিযান শুরু করে ১৩ তারিখ নবান্নে দাবিপত্র নয়, চার্জশিট দিতে যাব। পুলিশ বাধা দিলে রাস্তায় দেখা হবে!’’ যুব নেতাদের হুঁশিয়ারির পরে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার অবশ্য আজ, বুধবার তাঁদের দেখা করতে বলেছেন।

আরএসপি-র যুব সংগঠন আরওয়াইএফের নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর নানা ঘোষণা সত্ত্বেও বিভিন্ন পরীক্ষার ফর্‌ম পূরণের নামেও ‘কাটমানি’ তোলা হচ্ছে। শেষমেশ পরীক্ষা বা নিয়োগ হচ্ছে না। যাবতীয় অনিয়ম বন্ধ করে সব শূন্য পদে নিয়োগের দাবিও নবান্ন অভিযানে থাকছে বলে তিনি জানান।