লোকসভা ভোটের প্রচার-পর্বে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগে জেলাভিত্তিক ‘রিক্রুটমেন্ট বোর্ড’ গড়ার দাবি তুলেছিলেন কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো। এ বার ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতিসভায় প্রায় একই সুরে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পুরুলিয়ার ছেলেমেয়েদের বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘যুব সমাজ আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছে শুধু বেকার সমস্যার জন্য। এই জেলায় কলকারখানা নেই, চাষ নেই। দলের নীতি ঠিক করতে পারলে যুব সমাজ তৃণমূলের পতাকার নীচে আসবে।’’ যদিও অভিযোগের প্রতিবাদ করেছেন দলের তরফে দুই জেলা পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মলয় ঘটক। 

সম্প্রতি পুরুলিয়া শহরের হরিপদ সাহিত্য মন্দিরে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতিসভায় জেলার বেকার সমস্যার কথা বলতে গিয়ে নবেন্দুর অভিযোগ, ‘‘পুরুলিয়ার বেকার ছেলেমেয়েরা দেখছেন, বাইরে থেকে এসে এখানে অনেকে বিভিন্ন দফতরে কাজে যোগ দিচ্ছেন। কিছু দিন আগে ভূমি দফতরে একই ভাবে বেশ কয়েক জন যোগ দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, সরকারি নিয়মে সারা রাজ্যের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাচ্ছেন। কিন্তু জেলার বেকারদের তা বোঝানো যাচ্ছে না। তাঁরা বলছেন, ‘মেদিনীপুরের লোক এসে চাকরি করবে, আর আমি কি শুধু ঝান্ডা বইব’?’’ মঞ্চে তখন বসে দুই মন্ত্রী— মলয় ঘটক ও শান্তিরাম মাহাতো।

শুভেন্দু বলেন, ‘‘কে বা কারা বলছে, মেদিনীপুরের কোনও লোক ঢোকায় এখানে সেই জেলার লোকেরা কাজ পেয়ে যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জ করছি, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, শুভেন্দু অধিকারী সে ধরনের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত, তা হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। এ ধরনের মিথ্যা প্রচার থেকে বিরত থাকুন।’’ শান্তিরাম মন্তব্য করতে চাননি। তবে মলয়বাবুর বক্তব্য, ‘‘নিয়োগ নিয়ে কোনও কোনও ক্ষেত্রে অপপ্রচার হচ্ছে। তাই শুভেন্দুবাবু এ কথা বলেছেন।’’

নবেন্দু পরে দাবি করেন, ‘‘কারও নাম করিনি। শুধু জেলার বেকার ছেলেমেয়েদের মনের কষ্টের কথা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেছি।’’ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি উত্তম বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সময়েও বহিরাগতদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল জেলায়। হয়েছিল আন্দোলন। পরে জেলার কয়েক জন চাকরি পান।