ভোটের কাজে নাম দৃষ্টিহীনের
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এক সরকারি কর্মীকে ভোট গ্রহণের দায়িত্বভার দিল কোচবিহার জেলা প্রশাসন। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁর কাছে চিঠিও এসে পৌঁছেছে।
blind

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এক সরকারি কর্মীকে ভোট গ্রহণের দায়িত্বভার দিল কোচবিহার জেলা প্রশাসন। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁর কাছে চিঠিও এসে পৌঁছেছে।

তুফানগঞ্জ ২ নম্বর চক্রসম্পদ কেন্দ্রের কর্মী ধনঞ্জয় দাস চোখে দেখতে পান না। একশো শতাংশ  দৃষ্টিহীন তিনি। কোনও কোনও সময়ে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয় তাঁকে। সই করতে পারেন না, অফিশিয়াল কাজ করেন আঙুলের ছাপ দিয়ে। ট্রাকটাইল বা ব্লে পদ্ধতিতে অফিসের কাগজপত্রের কাজ করেন। এ দিকে, জেলা প্রশাসনের তরফে লোকসভা নির্বাচনে থার্ড পোলিং অফিসার হিসাবে কাজ করার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। 

অর্থাৎ, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কোনও ভোটার এলে তাঁর আঙুলে কালি লাগানো, ইভিএম মেশিনের বোতাম টিপে তা চালু করা ইত্যাদি রয়েছে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে। তার পরে ভোটার ভোট কক্ষে গিয়ে ভোটদান করতে পারবেন। একজন ১০০ শতাংশ দৃষ্টিহীনকে কী ভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হল, তুফানগঞ্জের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে। 

ধনঞ্জয়বাবু জানালেন, ১৯ বছর ধরে সরকারি কর্মচারী তিনি। একটা সময়ে কোচবিহারে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে তিনি তুফানগঞ্জ ২ নম্বর চক্রসম্পদ কেন্দ্রে কর্মরত। বললেন, ‘‘আমি ট্রেকটাইল পদ্ধতিতে সমস্ত অফিসের কাজ করি। কিছু কিছু সময়ে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। তবে সই করতে না পারায় আঙুলের ছাপ দিতে হয়।’’ জানালেন, এত বছরের কর্মজীবনে কোনও দিন ভোটের ডিউটি পড়েনি। কিন্তু এ বার জেলাশাসকের দফতর থেকে ১৭ তারিখ ট্রেনিংয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ এসেছে। তাঁর দাবি, ‘‘আমি ভোটকর্মী হিসাবে সক্ষম নই। হয়তো ভুলবশত আমার নামটা দফতর থেকে পাঠানো হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে মহাকুমাশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। আমাকে জেলায় কথা বলতে বলা হয়েছে। এ বার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

তুফানগঞ্জের মহকুমাশাসক অরবিন্দ ঘোষ জানান, আমার কাছে ওই কর্মী এসেছিলেন। মনে হচ্ছে তথ্য পাঠানোর সময়ে কোনও ভুল হয়েছে। বিষয়টি জেলাশাসকের পাঠাবো। সেখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

  • উনি এমনই এক জন চৌকিদার, যিনি শুধু ধনীদেরই রক্ষা করেন।

  • author
    প্রিয়ঙ্কা গাঁধী কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক

আপনার মত