উত্তরের ভোট দেখতে আগেই হাজির নায়েক
রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে না-দেখে অবশ্য সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি নায়েক।
Ajay Nayak

অজয় নায়েক

ঠিক ছিল, আজ, বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পা রাখবেন তিনি। কিন্তু আজ সকালেই জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ লোকসভা আসনে ভোট শুরু হয়ে যাচ্ছে। সেই ভোটগ্রহণ দেখতেই নির্দিষ্ট দিনের আগে, বুধবার বেশি রাতে শহরে পৌঁছন রাজ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের পাঠানো বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক।

রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে না-দেখে অবশ্য সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি নায়েক। বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে মুখ খোলেননি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও)-এর দফতরের কর্তারাও।

তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, রাজ্যের ভোট দেখার জন্য নির্ধারিত সূচির বদল করেছেন রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক। পশ্চিমবঙ্গের সিইও দফতরের কর্তাদের মতে, কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষককে কী দায়িত্ব দিয়ে পাঠাচ্ছে, তা জানা যায়নি। ইতিমধ্যে রাজ্যে বিশেষ পুলিশ-পর্যবেক্ষক হিসেবে বিবেক দুবেকে নিয়োগ করেছে কমিশন। তার পরে আবার এক জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, বিশেষ পর্যবেক্ষক পুলিশের থেকেও অনেকাংশেই প্রশাসনিক বিষয়টি দেখাশোনা করতে পারেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

উত্তরবঙ্গের দু’টি আসনে ভোট ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আজ ভোট হচ্ছে তিনটি আসনে। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা প্রথম দফার থেকে অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। সেই বাহিনীর ব্যবহার কোনও অংশে কম নয় বলেই মনে করেছেন রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক। তার পরেও যদি রাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বুথে গোলমাল হয়, সে-ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের উপরে দায় চাপতে পারে বলে কমিশনের একাংশের অভিমত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের আলোচনার পরেই স্পর্শকাতর বুথ নির্ধারিত হয়। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা-ও স্থির হয় ওই আলোচনায়। তাই যদি গোলমাল হয়, সে-ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ঠিক তথ্য দেয়নি বলে মনে করা হতে পারে।

২৩ এপ্রিল বালুরঘাট, মালদহ উত্তর এবং মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের ভোটের পরে উত্তরবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন পর্ব শেষ হবে। অবশ্য তৃতীয় দফায় ওই তিন কেন্দ্রের সঙ্গেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুর আসনের ভোট। ফলে উত্তরবঙ্গের থেকে এখন কমিশনের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ। তা নিয়েও বিশেষ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের ভোট অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে কঠোর মনোভাবই নিতে পারেন বিশেষ পর্যবেক্ষক। ১৯৮৪ ব্যাচের আইএএস নায়েক অবশ্য রাজ্যের পরিস্থিতি যাচাই না-করে কিছু বলতে চান না। এ দিন সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) নায়েক।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত