রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসন ঘিরে জট অব্যাহত। কিন্তু রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ ভোটকে একত্র করার লক্ষ্যে কংগ্রেসের জন্য এখনও দরজা খোলাই রাখছে সিপিএম। আলিমুদ্দিনে বৃহস্পতিবার দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা— ঘরে-বাইরে দুই ক্ষেত্রেই দরজা বন্ধ না করার বার্তা দিলেন সিপিএম নেতৃত্ব।

প্রদেশ কংগ্রেস নির্বাচন কমিটির বৈঠকে বুধবার রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদের জট খোলার কোনও রাস্তা বেরোয়নি। সিপিএমের গত বারের জেতা দুই আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি থেকে কংগ্রেস সরতে না চাওয়ায় লোকসভা নির্বাচনে দু’পক্ষের সমঝোতা নিয়ে সংশয় প্রবল। কিন্তু শেষ চেষ্টা করার জন্য কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে আলোচনা চালানোর কথা বলেছিল। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেসের দুই নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য ও শঙ্কর মালাকারের (আব্দুল মান্নান আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোয় তাঁর বিকল্প) সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেব। তাদের গত বারের জেতা আসন থেকে কংগ্রেস দাবি না তুললে বাকি আসন নিয়ে আলোচনা করা যে মুশকিল, সেই কথাই বৃহস্পতিবার বৈঠকে জানানো হয়েছে সিপিএমের তরফে। তবে কংগ্রেস রবিবারের মধ্যে আলোচনা-পর্ব মিটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিল। সিপিএম তাদের অনুরোধ করেছে, এখনই দরজা বন্ধ না করে কথা চালিয়ে যাওয়া হোক।

দিল্লিতে রবিবার থেকে সিপিএমের দু’দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে দলের রাজ্য নেতারা দিল্লি যাবেন বলে তাঁরা আলোচনায় আরও সময় নিচ্ছেন। পাশাপাশিই রাজনৈতিক ভাবে সিপিএমের লক্ষ্য, সমঝোতার আলোচনা থেকে তারা বেরিয়ে যায়নি— এই বার্তা সামনে রাখা। যে কারণে এ দিনই দলের রাজ্য কমিটির জবাবি ভাষণে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, বিজেপি ও তৃণমূলের মোকাবিলায় সব ভোটকে এক জায়গায় আনতে তাঁদের চেষ্টা জারি থাকবে। তাদের জেতা আসনে অন্য দল (কংগ্রেস) প্রার্থী দিলে সিপিএমও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কিন্তু কংগ্রেসের জেতা চারটি আসন তারা ছেড়ে রাখতে পারে। তাতে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যাবে, কংগ্রেসের প্রতি ‘আক্রমণ নয়’ নীতি তারা বজায় রেখেছে। সে ক্ষেত্রে সমঝোতা ভেস্তে দেওয়ার দায় তাঁদের উপরে পড়বে না বলে সূর্যবাবুদের মত।

 রাজ্য কমিটির বৈঠকে জেলা নেতাদের একাংশ বলেছেন, বিজেপি-র উত্থান ঠেকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালানো উচিত। আবার একাংশের মত, দুই আসনে কংগ্রেস অনড় থাকলে বামেদেরও নিজেদের মতো লড়াই করা উচিত। তবে ভোটের রণকৌশল কী হবে, অনন্ত কাল তা নিয়ে আলোচনা না চালিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি আসছে সিপিএমের নিচু তলা থেকে। দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য অবশ্য বলছেন, ‘‘লাখ কথার আগে কি কোনও রফা হয়?’’