মোদী-মমতার সভায় পাল্লা চলল ভিড়ের
শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে মোদীর জনসভা ঘিরে যানজটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির রাস্তায় আটকে পড়েন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও। তাঁর অভিযোগ, মমতা প্রশাসন ‘ষড়যন্ত্র’ করেই যানজট করিয়েছে। যদিও প্রশাসন তা মানতে চায়নি। 
Mamata Banerjee

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

উত্তরে বুনিয়াদপুরে নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণে কালীগঞ্জে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই সভাতেই আছড়ে পড়ল ভিড়। তার  জেরে কোথাও যানজটে অবরুদ্ধ পথে অসুস্থ হয়ে পড়লেন বৃদ্ধ। কোথাও আবার মহিলাদের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে পড়ার উপক্রম। অসুস্থতার জেরে এক বৃদ্ধ মারাও গিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে মোদীর জনসভা ঘিরে যানজটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির রাস্তায় আটকে পড়েন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও। তাঁর অভিযোগ, মমতা প্রশাসন ‘ষড়যন্ত্র’ করেই যানজট করিয়েছে। যদিও প্রশাসন তা মানতে চায়নি।     

এ দিন সকাল থেকেই মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা গাড়িতে বুনিয়াদপুরের নারায়ণপুরে পৌঁছতে শুরু করেন। সকাল ১০টার আগেই রাজ্য সড়কে জনস্রোত আছড়ে পড়ে। সাড়ে ১০টা নাগাদ মোদী মঞ্চে ওঠেন। ভিড় মাঠ ছাড়িয়ে রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়কে উঠে পড়ে। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় নারায়ণপুর এলাকার ওই রাজ্য সড়ক। এক সময়ে হুড়োহুড়িতে মাঠের একাধিক বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে যায়। অনেকেই গাছে উঠে পড়েন। তা দেখে মোদী হাসিমুখে বলেন, ‘‘মাঠে ও রাস্তায় জায়গা নেই। এখনও লোক আসছে। যাঁরা গাছে চড়েছেন, সাবধানে থাকুন।’’

বেলা ১১টা নাগাদ সভা শেষের পরে নারায়ণপুর থেকে জোড়দিঘি পর্যন্ত রায়গঞ্জের দিকে প্রায় চার কিলোমিটার ও বংশীহারি সেতু থেকে ডিটোলহাট পর্যন্ত বালুরঘাটের দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার রাজ্য সড়কে তীব্র যানজট হয়। দুপুর প্রায় ৩টে পর্যন্ত রাস্তা রুদ্ধ হয়ে থাকে। আটকে যায় একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স ও মাতৃযান। সভার মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ননীগোপাল রায় (৭৮) নামে এক বৃদ্ধ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বংশীহারি সেতুর কাছে যানজটে আটকে রাস্তাতেই মারা যান তিনি।  

সভার পরে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও আর কয়েক জন রাজ্য নেতা গঙ্গারামপুরে যান। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সভায় যাওয়ার পথে বুনিয়াদপুরে যানজটে আটকে পড়েন। পরে এসপিজি গিয়ে তাঁদের গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে। জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে নিয়ন্ত্রণের। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সভায় আগত প্রচুর গাড়ি বেআইনি ভাবে যত্রতত্র রাস্তার ধারে পার্ক করা হয়েছে। সেই কারণেই যানজট আরও বেড়ে যায়।’’ 

নদিয়ার কালীগঞ্জে আবার মমতার সকাল থেকেই আকাশের দিকে  চেয়ে ছিল জনতা। হেলিকপ্টারের শব্দ শুনেই তারা উদ্বেল। বিশেষ করে মহিলাদের বসার জায়গায় উল্লাস কার্যত বাঁধভাঙা। মাথায় ঘোমটা, কাঁখে বাচ্চা, অন্য হাতে মোবাইলে ‘দিদি’র ছবি তুলতে মরিয়া চেষ্টা। এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় বসার জায়গার দখল নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ। সভায় মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা ক্রমশ তেতে উঠতে থাকে।

এ দিন কালীগঞ্জের পানিঘাটার জনসভায় মমতা মঞ্চে ওঠার পরে তা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সভা পণ্ড হওয়ার উপক্রম। মহিলাদের যখন জায়গা দখল আর মোবাইলে মমতার ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি চলছে, মমতা বলতে থাকেন, ‘‘আপনারা তো মায়ের মতো, লক্ষ্মী মেয়ে।’’ বলেন, ‘‘আপনারা শান্ত হয়ে বসুন।’’ তার পরেও গোলমাল না থামায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী রাগত ভাবে আয়োজকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘এ সবও কি আমাকে করতে হবে?’’

প্রশাসনিক কর্তা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা শশব্যস্ত হয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ছোটাছুটি করতে থাকেন। কাজ হয় না। বিরক্ত মমতা বক্তৃতা দিতে-দিতেই ধমকে ওঠেন, ‘‘যদি কেউ চলে যেতে চায় তাকে চলে যেতে দিন। চিৎকার বন্ধ হবে।’’ চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে মিনিট দশেক বক্তৃতা থামিয়ে চেয়ারে গুম হয়ে বসে থাকেন মমতা। মঞ্চ থেকেই নির্দেশ দেন, ‘‘লোক কি বেশি হয়ে গিয়েছে? তা হলে সামনে যে ঘেরা জায়গাটুকু রাখা আছে তার মধ্যে জায়গা করে দিন।’’ সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এটাও কি আমাকেই করতে হবে? এটা আমি আসার আগে করা যায় না?’’

বারবার মহিলাদের শান্ত হয়ে বসতে বলতে হয় তাঁকে। আয়োজকদের প্রতি বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি। অবস্থা দেখে মঞ্চ থেকে নেমে সোজা ব্যারিকেডের বাঁশের উপর উঠে পড়েন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র। মহিলাদের একাংশকে সরিয়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বসার জায়গা করে দেওয়া হয়। তার পরে ফের শুরু হয় সভা। পরে বগুলার সভায় আর ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। মঞ্চের সামনের ব্যারিকেড খুলে মহিলা দর্শকদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বলা হয়। তার পরে আর বিপত্তি হয়নি। 

সভায় এসে মৃত্যু বৃদ্ধের

 

নিজস্ব সংবাদদাতা

 

বালুরঘাট: প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে এসে সভার মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হিলির পাঞ্জুল থানার বাসিন্দা ননীগোপাল রায় (৭৮)। জেলা বিজেপি সূত্রে জানানো হয়, তাঁকে তখন বুনিয়াদপুরের বদলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার দাবি করেন, ননীগোপালকে এর পরে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে যাওয়ার সময়ে তাঁর গাড়ি যানজটে পড়ে। সেই গাড়ি দীর্ঘক্ষণ বংশীহারি ব্লকের টাঙন সেতুর উপরে দাঁড়িয়েছিল বলে দাবি। শুভেন্দু জানান, সেখানেই বৃদ্ধ মারা যান। জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় গাড়ি ও লোক কত হতে পারে, তা নিয়ে পুলিশকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। বংশীহারির ওই এলাকায় রাস্তার ধারে বহু গাড়ি পার্ক করে চালকেরা চাবি নিয়ে চলে যায়। শেষ অবধি চেষ্টা করে যানজট মুক্ত করা হয়েছে।’’ 

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

  • সকলকে বলব ইভিএম পাহারা দিন। যাতে একটিও ইভিএম বদল না হয়।

  • author
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলনেত্রী

আপনার মত