প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা দিতে হবে। তবে আপাতত গ্রেফতারি এড়ালেন মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়মা বীণাপাণি দেবীর সই জাল সংক্রান্ত মামলায় আগামী দু’সপ্তাহ তাঁদের গ্রেফতার করা যাবে না বলে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই দুই অভিযুক্তের আগাম জামিনের মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি মনোজিৎ মণ্ডলের ডিভিশন বেঞ্চের আরও নির্দেশ, এই দু’সপ্তাহে তাঁরা গাইঘাটা থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না।

পুলিশ জানায়, তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর গত ১১ ফেব্রুয়ারি গাইঘাটা থানায় মঞ্জুলকৃষ্ণ ও শান্তনুর বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, বড়মা কিছু দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখে জাতীয় নাগরিকত্ব বিল মেনে নিতে অনুরোধ জানান। বড়মা চিঠিতে আরও জানান, ওই বিল মেনে নিলে মতুয়ারা উপকৃত হবেন। কিন্তু সেই চিঠিতে যে-সই ছিল, সেটি বড়মার নয় বলে মমতাবালার অভিযোগ। সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, মঞ্জুলকৃষ্ণ ও শান্তনু সই জালের ঘটনায় জড়িত। তার ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে গাইঘাটা থানার পুলিশ।

সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান মঞ্জুলকৃষ্ণ ও শান্তনু। এ দিন তার শুনানিতে ওই দুই অভিযুক্তের আইনজীবী সৌরভ মিত্র আদালতে জানান, রাজনৈতিক কারণে তাঁর মক্কেলদের ফাঁসানো হয়েছে। লোকসভা ভোটের মুখে এটি আসলে রাজনৈতিক চক্রান্ত। তিনি আদালতকে অনুরোধ জানান, মামলার শুনানি কিছু দিনের জন্য মুলতুবি রাখা হোক। সরকারি আইনজীবী রুদ্রদীপ্ত নন্দী তার বিরোধিতা করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মামলাটি এক সপ্তাহের জন্য মুলতুবি রাখা হচ্ছে। তবে ওই দুই অভিযুক্তকে সপ্তাহে এক বার করে গাইঘাটা থানার ওসি-র কাছে হাজিরা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯