ভাত থেকে জামা ভাঁজ, দায়িত্ব এঁদেরই
প্রার্থীরা সামলাচ্ছেন প্রচার, আর এঁরা সামলাচ্ছেন প্রার্থীদের। নীচে রইল তাঁদেরই কথা। 
election

মহুয়ার সর্বক্ষণের সঙ্গী মুকেশ যাদব, কল্যাণ চৌবের স্ত্রী সোহিনী চৌবে, শান্তনু ঝার সর্বক্ষণের সঙ্গী এসএম সাদি (উপরে বাঁ দিক থেকে)। রূপালী বিশ্বাসের মা চম্পা হালদার, মিনতি বিশ্বাসের ভাইপো শম্ভু বিশ্বাস, মুকুটমণি অধিকারীর বাবা ভূপাল অধিকারী (নীচে বাঁ দিক থেকে)। —নিজস্ব চিত্র।

মুকেশ যাদব, মহুয়া মৈত্রের সর্বক্ষণের কর্মী:  

ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মহুয়া ছুটে চলেছেন কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। খাওয়া নেই, ঘুম নেই। তাতেই চিন্তায় মুকেশ। ম্যাডামের খুঁটিনাটি খেয়াল রাখতে হয় তাঁকে। সকালে ম্যাডাম খান সামান্য ফল আর একটা সেদ্ধ ডিম। দুপুরে কোথায় থাকবেন, কী খাবেন ঠিক থাকে না। মুকেশ তাই শসা কেটে গুছিয়ে দেন ব্যাগে। সঙ্গে জলের বোতল। রাতের সবজি আর ডাল রান্না করে রাখেন মুকেশ। পাট পাট করে ইস্ত্রি করে রাখেন ম্যাডামের শাড়ি। 

সোহিনী চৌবে (কল্যাণ চৌবের স্ত্রী):

সকাল সাতটার মধ্যে বেরিয়ে যান মানুষটা। ফেরেন সেই মাঝরাতে। সারা দিন কর্মীদের সঙ্গে প্রচার। তাঁদের সঙ্গেই খাওয়া। তাই বিজেপি প্রার্থী কল্যাণের খাওয়া নিয়ে চাপ নিতে হয় না তাঁর স্ত্রীকে। শুধু মাঝে-মধ্যে ফোন করে খোঁজখবর নেন। তবে বড় একটা জলের বোতল তুলে দেন গাড়িতে। পইপই করে বলেন— ‘‘জলটা বেশি করে খেয়ে নিয়ো।’’ প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার দুই দিন পরে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন কল্যাণ চৌবে। তার পর থেকে স্বামীর সঙ্গেই কৃষ্ণনগরে আছেন সোহিনী।  

চম্পা হালদার (রূপালী বিশ্বাসের মা)

সকালে নাকে-মুখে গুঁজে কোনও মতে বেরিয়ে পড়া। সারা দিন শেষে ফেরা। এর মাঝে ছেলেকে সামলানো। স্বামীকে হারানোর এক মাসের মধ্যেই লড়তে নেমেছেন ভোটের ময়দানে। পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মা। রানাঘাট লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী রুপালী বিশ্বাসের বাপের বাড়ি থেকে ফুলবাড়িতে এসেছেন রূপালীর মা চম্পা হালদার। প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পরে মেয়ের বিশ্রাম, খাওয়ার ব্যাপারে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন তিনি। সকালে এগিয়ে দিচ্ছেন খাবারের থালা। নাতিকে দেখাশোনা করাও বড় কাজ তাঁর। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

শম্ভু বিশ্বাস (মিনতি বিশ্বাসের ভাইপো):

আট ভাই-বোনের সব চেয়ে ছোট ছিলেন রানাঘাট লোকসভার কংগ্রেস প্রার্থী হাঁসখালির বাসিন্দা মিনতি বিশ্বাস। এখন তাঁকে নজরে রাখেন ভাইপো শম্ভু বিশ্বাস। পিসির যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাঁর। পিসি কী করবেন, প্রচারে গিয়ে কী বলবেন, সব দিকেই খেয়াল রয়েছে ভাইপোর। শম্ভু জানিয়েছেন, আগে ছোটবেলায় পিসির সঙ্গে প্রচারে যেতেন। এবারেও যাবেন। খেয়াল রাখবেন, যাতে মিনতিই জেতেন।                   

এসএম সাদি (শান্তনু ঝা-এর সঙ্গী):

বেশ কয়েক দিন ধরে বাড়ি ফেরা হচ্ছে না শান্তনুর। কৃষ্ণনগরে দলীয় কার্যালয়ে রাত্রিবাস। নিজের কাজ করে নিতে হয় নিজেকেই। যে দিন যে এরিয়া কমিটি এলাকায় প্রচারে যান, সে দিন সেই কমিটির সম্পাদক ব্যবস্থা করেন দুপুরের খাওয়া। এ গেল বাইরের দিক। ভিতরে সুপরিকল্পিত ভাবে তাঁর পদক্ষপ ঠিক করেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য এসএম সাদি। জেলা কার্যালয়ে বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে নিয়ে তিনি ঠিক করে রাখেন প্রচারসূচি। শান্তনুর সঙ্গে ভোটের ময়দানের লড়াইয়ে যিনি অন্যতম সেনাপতি।   

ভূপাল অধিকারী, মুকুটমণি অধিকারীর বাবা

রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী মুকুটমণির বাবা ভূপাল অধিকারী। ভূপালবাবু এখন সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসংঘের সহ সম্পাদক। ফলে, জনসংযোগের কৌশল তাঁর চেয়ে ভাল কেউ জানেন না। প্রতি দিনের প্রচারে মুকুটমণির ছায়াসঙ্গী তাঁর বাবা। সকাল আটটার মধ্যে ডাল-ভাত খেয়ে বাবাকে সঙ্গী করে দলের নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী প্রচারে বেরিয়ে পড়ছেন মুকুটমণি। ফিরতে বেশ রাত। তবে, রাত যতই হোক, সারা দিনের অভিজ্ঞতার গল্প মাকে না শুনিয়ে ঘুমোতে যান না।            

রমা বিশ্বাস (নিজেই নিজের দায়িত্বে):  

রানাঘাট লোকসভার বামপ্রার্থী রমা বিশ্বাস প্রতি দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের হাতে জামাকাপড় কাচেন। এর পরে ঢুকে যান হেঁসেলে। ছেলে ঘুম থেকে ওঠার পরে ছেলেকে খাবার দেওয়া। নিজে কোনওমতে নাকেমুখে গুজে দেন সামান্য ভাত, ডাল, তরকারি। এর পরে বেরিয়ে পড়া প্রচারে। ফিরতে ফিরতে রাত। বাড়ি ফিরে ঘরের টুকটাক কাজ সারেন। 

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

  • সকলকে বলব ইভিএম পাহারা দিন। যাতে একটিও ইভিএম বদল না হয়।

  • author
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলনেত্রী

আপনার মত