প্রার্থীদের লক্ষ্মীলাভের দৌড়ে এগিয়ে মুনমুন
চতুর্থ দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ।
munmun

—ফাইল চিত্র।

কোন প্রার্থী হাসবেন আর কোন প্রার্থীর মুখে নামবে মেঘ, কার ভোট বাড়বে আর কার কমবে, তা জানা যাবে ২৩ মে, ফল ঘোষণার দিন। কিন্তু ভোটের আগেই প্রার্থীদের ভাঁড়ারের হিসেবনিকেশ বলছে, গত পাঁচ বছরে রাজ্যের এক সাংসদ তথা এ বারের প্রার্থীর সম্পত্তি বেড়েছে পাঁচশো গুণেরও বেশি! আবার ওই সময়কালেই বাংলার এক সাংসদ এবং এ বারের প্রার্থীর সম্পত্তি কমে গিয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।

চতুর্থ দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ। তারা জানিয়েছে, আগামী ২৯ এপ্রিল চতুর্থ দফার নির্বাচনে রাজ্যে মোট ৬৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন লড়েছিলেন ২০১৪ সালেও। ওই ১৪ জন ২০১৪ সালে হলফনামায় সম্পত্তির যে-হিসেব দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে এ বারের হিসেবের তুলনামূলক বিচারে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ওই সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ১৪ জনের মধ্যে গত পাঁচ বছরে সব থেকে বেশি সম্পত্তি বেড়েছে বাঁকুড়ার বিদায়ী সাংসদ এবং আসানসোলের তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনের। এই পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে আট কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। তবে আসানসোলের বিদায়ী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের পাঁচ বছরে সম্পত্তি কমেছে এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকার। সম্পত্তি কমেছে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ এবং প্রার্থী শতাব্দী রায়েরও। সম্পত্তি বৃদ্ধির তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ এবং প্রার্থী মমতাজ সঙ্ঘমিতা এবং বহরমপুরের সাংসদ-প্রার্থী অধীর চৌধুরী।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর উজ্জয়িনী হালিম জানান, চতুর্থ দফার ভোটের ৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন কোটিপতি। তৃণমূল ও বিজেপির আট জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি ছ’জন। কংগ্রেসের আট জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জন কোটিপতি। সিপিএমের সাত জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি দু’জন। তৃণমূল প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ চার কোটি টাকারও বেশি। বিজেপি এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের গড় সম্পত্তি দু’‌কোটি টাকার বেশি। তবে দলনির্বিশেষে সব প্রার্থীর সম্পত্তির যোগ করে তার গড় হিসেব করলে প্রত্যেকেই ‘কোটিপতি’! এই দফায় সব থেকে ধনী প্রার্থী তৃণমূলের মমতাজ সঙ্ঘমিতা। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১৩.৬৬ কোটি টাকা।

আগামী দফায় মুর্শিদাবাদ জেলার একটি কেন্দ্র, নদিয়ার দু’টি, বর্ধমানের তিনটি এবং বীরভূমের দু’টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ৬৮ জনের মধ্যে ১৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও না-কোনও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ১২ জনই খুন, খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বা বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত। সব থেকে বেশি অভিযুক্ত সিপিএমের প্রার্থীরা। তাদের সাত জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের সাত প্রার্থীর মধ্যে মাত্র এক জন, বহরমপুরের প্রার্থী অপূর্ব সরকার গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত। তিনি আগে কংগ্রেসে অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সম্প্রতি তৃণমূলে এসেছেন। কংগ্রেসের শুধু অধীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির আট প্রার্থীর মধ্যে তিন জন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত