মাসের পর মাস ‘গুরুতর অসুস্থ’ বন্দি মদন মিত্রকে জেলের ভাত খাওয়া থেকে ‘রক্ষা’ করে গেল এসএসকেএম। আর জামিন হতে না হতেই মিলে গেল ছাড়া পাওয়ার ফিট সার্টিফিকেট। হঠাত্ জামিনের মতো এই হঠাত্ ফিটনেস নিয়ে সরকারের মহলেই শুরু হয়ে গিয়েছে কানাঘুষো।

শনিবার রাত পর্যন্ত খবর ছিল, জামিন পেয়ে যাওয়া মদন মিত্রকে বুধবারের আগে রিলিজ করবে না এসএসকেএম। কেন না এখনই ফিট বলে ছেড়ে দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশ্বাযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

এমনিতেই বারবার আদালতে এবং আদালতের বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে এসএসকেএম-কে। সিবিআই বারবার আদালতে বলেছে, মন্ত্রী মদন মিত্র তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়েই হাসপাতালে থাকছেন। রাজনৈতিক বিরোধীরাও বারবার একই অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু দিনের পর দিন, মাসের পর মাস উডবার্ন ওয়ার্ডে গুছিয়ে বাস করেছেন বন্দি মদন মিত্র। খাতায় কলমে ৩২৫ দিন তিনি সিবিআই বা জেল হেফাজতে থাকলেও, আসলে প্রায় গোটাটাই তিনি কাটিয়েছেন উডবার্নের সাড়ে বারো নম্বর ভিভিআইপি কেবিনে। রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতির যদি কলকাতায় এসে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়, তাঁকে রাখা হবে এই সাড়ে বারো নম্বরেই। মদনের উডবার্ন-বাস নিয়ে যখন এত সন্দেহ, এত প্রশ্ন, এত সমালোচনার ঝড় বয়েছে, তখন সরকারি কর্তাব্যক্তিরাও ধরে নিয়েছিলেন, অন্তত আর কয়েকটা দিন তাঁকে হাসপাতালে থাকতেই হবে!

কিন্তু রবিবার সকাল থেকে আচমকা বদলাতে শুরু করল পরিস্থিতি। তড়িঘড়ি ডাকা হল মেডিক্যাল বোর্ড। মোবাইলে তলব করা হল আট চিকিত্সককে। এলেন চার জন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, এদিনই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে মদন মিত্রকে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...
হঠাৎ জামিনের পরই হঠাৎ ‘ফিট’, বাড়ি গেলেন মদন

স্বাভাবিক কারণে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে-

মদন সত্যিই কি এত দিন হাসপাতালে থাকার মতো অসুস্থ ছিলেন?

নাকি জেলে থাকা এড়াতে, এভাবেই এত দিন তাঁকে ‘সেবা’ করে গেল সরকারি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ?

শনিবার যদি মদন মিত্র আদালতে জামিন না পেতেন, রবিবার সকালে কি তাঁকে ফিট বলে জেলে পাঠাত হাসপাতাল?

প্রশ্নগুলো সহজ, আর উত্তরওতো জানা!