আম জনতার ক্ষেত্রে হামেশাই ঘটে। এ বার তেমনই প্রতারণার শিকার খোদ সাংসদ। অনলাইনে মোবাইলের অর্ডার দিয়ে মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু পেলেন মার্বেলের টুকরো!

এমন ঘটনায় হতবাক ওই সাংসদ। শোরগোল পড়ে যায় পুলিশ-প্রশাসন-সহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে। খগেনবাবু জানান, হইচই হওয়ার পরেই ওই সংস্থা টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি তা নিতে চাননি। কার্যত তিনি বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়ার কথাই জানিয়েছেন। অনলাইন শপিং সংস্থাগুলির এই প্রতারণার বিষয়টি সংসদেও বিষয়টি তুলবেন বলে জানিয়েছেন খগেনবাবু। 

গত লোকসভা ভোটের আগেই দীর্ঘ দিনের বাম নেতা খগেন মুর্মু বিজেপিতে যোগ দেন। মালদহ উত্তর কেন্দ্রে আগের বারের জয়ী প্রার্থী মৌসম বেনজির নুরকে হারিয়ে তিনি সাংসদ হন।

ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল? সাংসদের অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগে একটি অনলাইন শপিং সাইট ‘অ্যামাজন’ থেকে একটি স্যামসাং মোবাইলের অর্ডার দেন খগেনবাবু।‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা পণ্য আসার পর টাকা দেওয়ার অপশন বেছে নেন তিনি। রবিবার সেই ‘মোবাইল’ বাড়িতে আসে। কিন্তু খগেনবাবু বাড়িতে না থাকায় তাঁর স্ত্রী সেটি নেন। ডেলিভারি বয়ের হাতে মোবাইলের দাম ১১ হাজার ৯০০ টাকাদিয়েও দেন তিনি।

কিন্তু গতকাল সোমবার সেই বাক্স খুলতেই তাজ্জব বনে যান খগেনবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘বাক্স খুলেই দেখি বাক্সটা রেডমি ৫-এ মোবাইলের। সেই প্যাকেটেরও সিল খোলা ছিল। তাতেই অবাক হয়ে যাই। কারণ আমি অর্ডার দিয়েছিলাম স্যামসাং মোবাইলের।’’

কিন্তু অবাক হওয়ার আরও বাকি ছিল সাংসদের। তিনি বলেন, ‘‘বাক্স খুলতেই দেখি তার মধ্যে কয়েকটা মার্বেলের টুকরো।’’ মোবাইলের সঙ্গে তার চার্জার, হেডফোনের মতো অ্যাকসেসরিজও থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছুই ছিল না।

মোবাইল কেনার রসিদ ও খগেনবাবুর দায়ের করা অভিযোগের কপি। —নিজস্ব চিত্র 

এর পরেই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন খগেনবাবু। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘ঘটনা নিয়ে নাড়াচাড়া হতেই ওই সংস্থা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমাকে পুরো টাকা ফেরত দিতে চায়। কিন্তু আমি নিইনি। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি।’’ তবে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরেএ দিন ছুটি থাকায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। ওই দফতরে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি সংসদেও বিষয়টি তিনি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন খগেনবাবু।

আরও পড়ুন: মহা-সঙ্ঘাত চরমে, বিজেপি ৫০-৫০ উড়িয়ে দিতেই যৌথ বৈঠক বাতিল করল শিবসেনা

আরও পডু়ন: পাকিস্তানের থেকে মুক্তি চেয়ে তুমুল বিক্ষোভ অধিকৃত কাশ্মীরে, চলছে সেনা পীড়ন, বাইরে এল ভিডিয়ো

সাংসদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিক ভাবেই তার গুরুত্ব বেড়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যে এই ধরনের ঘটনা আকছার ঘটে, সে বিষয়ে অবগত খগেনবাবু। আর সেই কারণেই তিনি যে এই ধরনের ঘটনার শেষ দেখে ছাড়তে চান। তাঁর কথায়, ‘‘বহু মানুষ এ ভাবে প্রতারিত হয়েছেন। এটা চলতে পারে না।’’