বাংলাকে আঘাত করলে সে আঘাত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে—দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির জল্পনা সম্পর্কে মঙ্গলবার কড়া মন্তব্য করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘‘অত সস্তা নয়। বলা খুব সহজ। আগে নিজেদের দলকে ( বিজেপি) নিয়ন্ত্রণ করুক। আমরা কেউ হাতে চুড়ি পরে বসে নেই।’’

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে চাপানউতোর চলছিলই। এবার তা শুরু হল নবান্ন এবং রাজভবনের মধ্যে। রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যু নিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির দেওয়া তথ্যকে আগেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক সরকারি অনুষ্ঠানেই এ নিয়ে পাল্টা তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যপালকে সম্মান করি। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক ভাষণকে নয়।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমি রাজ্যপাল সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না। রাজ্যপালও মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন না। প্রত্যেকেরই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’’

সোমবারই একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন, নির্বাচনোত্তর হিংসায় রাজ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রিপোর্ট দিয়েছেন তিনি। এদিন হেয়ার স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘১০ জন খুন হয়েছেন। রাজ্যপাল বলেছেন ১২ জন। তাহলে কি টার্গেট করে সেই সংখ্যা পূরণ করবে?’’ তাঁর দাবি, রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যু নিয়ে রাজ্যপাল সঠিক তথ্য দেননি।

এদিন ইএম বাইপাসের ধারে একটি হোটেলের অনুষ্ঠানে গিয়েও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘গত ৮ বছরে রাজ্য আমূল বদলে গিয়েছে। কিন্তু একদল মানুষ রাজ্যের বদনাম করতে আইনশৃঙ্খলা অবস্থা খারাপ বলে প্রচার করছে।এটা রাজনৈতিক প্রচার। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা শান্তির বিচারে অন্য যে কোনও রাজ্যের থেকে বাংলা ভাল।’’

আইশৃঙ্খলা নিয়ে এদিনও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী তা সকলে জানে। এখনও সেই অবস্থা চলছে।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।