দলের সমস্ত ব্লক ও টাউন সভাপতিদের বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৫ অক্টোবর তৃণমূল ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বৈঠকে সব জেলার সভাপতিদের সঙ্গে থাকবেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সীরা। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রশান্ত কিশোরও ওই বৈঠকে থাকতে পারেন । তবে কী বিষয়ে এই বৈঠক, তৃণমূলের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। মনে করা হচ্ছে, পুর নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্যই এত বড় বৈঠক ডাকা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। মেয়াদ ফুরোতে চলেছে আরও অনেকগুলি পুরসভার। ফলে মাস দুয়েকের মধ্যে কমবেশি ১১০টা পুরসভায় নির্বাচন করতেই হবে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান,  তার আগে তৃণমূল সুপ্রিমো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিতে চাইছেন। সে জন্যই সব ব্লক কমিটি , টাউন কমিটি,  জেলা নেতৃত্বকে তলব করা হয়েছে। সকলের সঙ্গে কথা বলেই পুর নির্বাচনের দিকে এগোনো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে ৪০০-র কাছাকাছি ব্লক কমিটি রয়েছে। টাউন কমিটি রয়েছে ১২৭টি। লোকসভা ভোটের পরে প্রতিটি জেলার নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোর কমিটির বৈঠকও হয়েছে। তবে এত বড় বৈঠক হাল আমলে হয়নি ।

বিরোধীদের দাবি,  ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পুরসভার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও নির্বাচনের কোনও উদ্যোগ নেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। ভোট হলেই হার নিশ্চিত, এ কথা বুঝেই নির্বাচনে যেতে চাইছে না তৃণমূল। বিরোধীরা পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে আনছেন। তাদের অভিযোগ,  অবাধে ভোট হতে না দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তৃণমূল ভোটের আসরে নেমেছিল। অধিকাংশ জায়গায় নমিনেশন জমা দিতে দেওয়া হয়নি বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

আরও পড়ুন:বর্ষা বিদায়ের ঘণ্টা বেজেই গেল, এ বার শীতের অপেক্ষা
আরও পড়ুন:মহম্মদ সেলিমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল টুইটার, সিপিএম-বিজেপি তরজা

তার পরে লোকসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থায় পরিস্থিত ভাল মতো বুঝে নিয়েই পুরোভোটের যেতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৫ তারিখের বৈঠকের পরেই তৈরি হবে পুরভোটের নির্ঘন্ট।