প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের আগে কৃষকদের ঋণ মকুবের দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ, বৃহস্পতিবার কৃষিক্ষেত্র এবং একশো দিনের কাজের নীতি রূপায়ণে মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত ‘নীতি আয়োগ’-এর সাব কমিটির সমন্বয় বৈঠক হবে। কিন্তু, জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় দিল্লি যেতে পারবেন না মমতা। তবে কমিটির প্রধান তথা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে নিজের আট দফা প্রস্তাব লিখিত ভাবে পাঠিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ হল, ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ মকুব করা হোক। এ জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দের দাবিও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমানে গোটা দেশেই কৃষকদের অবস্থা নিয়ে বিস্তর চর্চা চলছে।
ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যেও। পরিস্থিতির গভীরতা বুঝে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়েছে কেন্দ্র। আর লোকসভা ভোটের আগে এই সিদ্ধান্তকেই প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি। এ নিয়ে প্রচার করতে ১৬ তারিখ মেদিনীপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তার পাল্টা রাজনৈতিক চাল হিসেবেই মমতা কৃষিঋণ মকুবের দাবি তুললেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মমতার আরও দাবি, রাজ্যভিত্তিক প্রধান ফসলগুলির ন্যূনতম সহায়ক মূল্যও ঘোষণা করতে হবে। এবং চাষিরা যাতে সেই দাম পান, তা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রকে। স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের আয় বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ করতে হবে। কৃষকদের উন্নতিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলিকে সংযুক্ত করার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

মমতার প্রস্তাব, একশো দিনের কাজের প্রকল্পের সঙ্গে কৃষি এবং উদ্যানপালনের জন্য অতিরিক্ত একশো দিন কাজ যুক্ত করা উচিত। তাতে কৃষকদের আয় ও জীবনযাত্রার উন্নতি হবে। ভূমিহীন কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের জন্য কিসান ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা চালুর দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কার্ড-পিছু ন্যূনতম ২ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও করেছেন তিনি। পাশাপাশি জোর দিয়েছেন কৃষিপণ্যের রফতানিতে ভর্তুকি চালুর উপরে।