পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ছাড়াই হঠাৎ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন আইনমন্ত্রী ময়ল ঘটকও।  মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রধান বিচারপচির সঙ্গে আচমকা সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে আইনজীবী মহলে। উত্তরবঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ গঠন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আলচনা করতেই কি প্রধান বিচারপতির বাড়ি ছুটলেন মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী? প্রশ্ন নানা মহলে।

বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান। সঙ্গে নিয়ে যান রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে। আইনজীবীদের একাংশের ধারণা, প্রধান বিচারপতির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার মূল কারণ, উত্তরবঙ্গে সার্কিট বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা।

১৭ অগস্ট জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ উদ্বোধনের কথা ছিল। গত মাসের শুরুতে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় জলপাইগুড়ি জেলার প্রশসানিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। কিন্তু যে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা ঘোষণা করার কথা, তা অনুসৃত হয়নি বলে আইনজীবীদের একাংশের দাবি। সার্কিট বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে পদ্ধতিগত প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ এবং আরও তিনটি অন্য  মামলা হয়। প্রথমে সেই মামলা প্রধান বিচারপতির এজলাসেই চলছিল। কিন্তু আইনজীবী প্রতাপ চট্টাপাধ্যায়ের আপত্তিতে প্রধান বিচারপতি মামলাটি ছেড়ে দেন। অন্য ডিভিশন বেঞ্চে আগামী সোমবার মামলাটি ‘মেনশন’ হওয়ার কথা। সে দিনই জানা যাবে, কবে শুনানি শুরু হবে।

তবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর, উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময়েই সার্কিট বেঞ্চ ঘোষিত হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী আচমকা প্রধান বিচারপতির বাড়ি যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট অরুনাভ ঘোষ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কেন প্রধান বিচারপতির বাড়ি গিয়েছিলেন জানি না। কিন্তু সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে যে জনস্বার্থ মামলা চলছে, তার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে যদি সার্কিট বেঞ্চ গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, তাহলে আইনজীবী মহল কিন্তু সহজে মেনে নেবে না। জটিলতা অনেক দূর গড়াবে।’’