লোকসভা ভোটের পর থেকে অশান্ত কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা। তুফানগঞ্জের দেওচড়াইয়ে ইটভাটা দখল নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সংঘর্ষ চলছে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষে। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে সরাসরি না হলেও রাজ্যের এই প্রান্তিক জেলার আইনশৃঙ্খলার কথা উঠে এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। তিনি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির পুলিশমহলকে ধরে ধরে দেখালেন, কোথায় কত অভিযোগ রয়েছে। তাঁর খেদোক্তি, ‘‘পুলিশ কী করে! এমন অভিযোগ রয়েছে, যেগুলি আমার বলা ঠিক হবে না। শুনলে লজ্জা লাগবে।’’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধেও পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। এ দিন বলেন, ‘‘ডিজিকে বলব, মুখ্যসচিবও আছেন। সাইবার ক্রাইম নিয়ে আইন না থাকলে আইন করুন। মিথ্যে প্রচার করলে, সাম্প্রদায়িক কিছু করলে কঠোরতর মামলা দিন।’’

এই রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি তিন জেলার পুলিশ সুপারের হাতে অভিযোগের বিবরণ তুলে দিয়ে জানান, অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে কোচবিহার। সেখান থেকে ২৪৭টি অভিযোগ, জলপাইগুড়ির ১৫৮টি ও আলিপুরদুয়ারে ১৪৭টি এসেছে প্রশাসনের হাতে। সরকারি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুলিশ সম্পর্কে যে অভিযোগগুলি গিয়েছে, তার মধ্যে তোলাবাজি, লিখিত অভিযোগ জমা না নেওয়া-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ ঠিকমতো কাজ করছে না। আরও সক্রিয় হতে হবে।’’ তার পরে তিনি বলেন, ‘‘জেলার এসপি হব, আর ঘরে বসে থাকব— এটা হবে না। আইসি-দের বলছি, কাজের ক্ষেত্রে ‘ব্যালান্স’ করে চালিয়ে দেব— এটা চলবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘প্রতিটি অভিযোগের তথ্য, কে করেছে, কার বিরুদ্ধে করেছে, কোন ওয়ার্ড বা ব্লক— সব রাখা আছে।’’ তিনি জানান, সাত দিনের মধ্যে এই সবের সুরাহা করতে হবে। তাঁর মন্তব্য, ‘‘উৎসবের মরসুমের পরে ফের আসব, সবই ফের খতিয়ে দেখব।’’ 

রাজ্য পুলিশের একটি অং‌শ মনে করছে, লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে দলের ভরাডুবির পর পুলিশের একাংশের কাজে মুখ্যমন্ত্রী সন্তুষ্ট নন। সেই প্রেক্ষিতে কথাগুলি বলেছেন।