এ মাসের গোড়ায় জেলা সফরে এসে তারাপীঠে পুজো দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই ইচ্ছে পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়। এ দিন তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর তিন দিনের রামপুরহাট ও তারাপীঠ সফর শেষে দুপুরে কলকাতা ফিরে যান। 

পুজো দেওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী মন্দির চত্বর কিছুক্ষণের জন্য ঘুরে দেখেন। পুজো দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কিছু জানাতে চাননি। তবে পরে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানান, তারাপীঠ মন্দির সংস্কারের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর। খুব শীঘ্রই সে কাজ শুরু হবে। প্রথম দফাতর সংস্কার কাজ দেখে মুখ্যমন্ত্রী খুশি বলেও আশিসবাবু জানান। 

বুধবার রামপুরহাটের প্রশাসনিক সভায় বীরভূমে নানা উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারাপীঠের কথাও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং সভা মঞ্চ থেকেই বৃহস্পতিবার তারাপীঠে পুজো দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেই মতো এ দিন সকাল থেকে রামপুরহাট সেচপল্লির ভিতরে সার্কিট হাউস থেকে দুমকা রামপুরহাট রাস্তা, রামপুরহাট শহরের ভিতর দিয়ে যাওয়া ধুলোডাঙা রোড, রামপুরহাট ছ’ফুঁকো থেকে সানঘাটা বাইপাস, রামপুরহাট সানঘাটা সেতু যাওয়ার রাস্তা, জাতীয় সড়কে সানঘাটা সেতু থেকে মনসুবা মোড় এবং মনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রচুর পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন রাস্তায়। 

 তারাপীঠের ভিতরে মন্দির যাওয়ার জন্য পালপাড়া মোড় থেকে মন্দির যাওয়ার ভিআইপি রাস্তাতেও নিরাপত্তা বন্দোবস্ত ছিল চোখে পড়ার মতো। এ দিন সকাল দশটা নাগাদ মন্দির চত্বরে পৌঁছে দেখা যায়, মন্দিরে তখনও দর্শনার্থীদের পুজো দেওয়ার দীর্ঘ লাইন। তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইতরা দ্রুত পুজোর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের পুজোর ব্যবস্থায় ব্যস্ত। মুখ্যমন্ত্রী তারাপীঠ মন্দিরে আসার কথ দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ। তার আগে মন্দিরে মায়ের ভোগ শেষ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মায়ের ভোগ খাওয়ার কথা। অন্যান্য দিন দুপুর ১২টার মধ্যে মা তারার মন্দিরের ভোগের প্রস্তুতির জন্য মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর দেড়টার পরে আবার দর্শনার্থীদের পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। 

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী পুজো দেবেন বলে মন্দিরে ভোগের ব্যবস্থা করার জন্য বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মন্দিরের গেট দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভোগের প্রস্তুতি চলাকালীন মন্দির চত্বরে পৌঁছে যান জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ-সহ জেলা তৃণমূলের নেতারা। দুপুর ১২ টা ৪০ নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর চপার তারাপীঠ সংলগ্ন চিলার মাঠে নামে। সেখান থেকে গাড়িতে মন্দিরে আসার আগে তারাপীঠ পাল পাড়া সংলগ্ন ভিআইপি গেটের বেশ কিছুটা আগে মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে পড়ে হাঁটতে শুরু করেন। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারাপীঠ মন্দিরে প্রবেশের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর পরিবার। মুখ্যমন্ত্রী মন্দির চত্বরে পা রাখতেই এলাকার মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে তাঁকে বরণ করেন। মন্দিরের ভিতরে মুখ্যমন্ত্রীর পুজোর তদারকিতে ছিলেন এ দিনের পালাদার বামাচরণ মুখোপাধ্যায়, পরোহিত শ্যামাকিঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সুকুমার মুখোপাধ্যায়, তারাময় মুখোপাধ্যায়, ধ্রুব চট্টোপাধ্যায়।