ঠিক সময়ে ভোট হলে লোকসভা নির্বাচনের আর ১৪ মাস বাকি। আঞ্চলিক দলগুলির জোট গড়ে সেই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে হটানোর ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, ‘‘সব আঞ্চলিক দল সঙ্ঘবদ্ধ হবে। সকলে একসঙ্গে লড়াই করব। অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।’’

আঞ্চলিক দলগুলির এই বোঝাপড়ায় সিপিএমকে সঙ্গে নিতেও যে আপত্তি নেই, সে কথাও তিনি ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এক বারের জন্য এ দিন কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়ার কথা তাঁর মুখে
শোনা যায়নি।

মমতা মনে করেন, লোকসভা ভোটে বিজেপিকে টক্কর দেবে আঞ্চলিক দলগুলিই। বরং গো-বলয় কিংবা পশ্চিম ভারতে যেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি লড়াই, সেখানে মোদীকে মুছে ফেলা সহজ হবে না। তার চেয়ে ওডিশায় বিজু জনতা দল, তেলঙ্গানায় তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি, অন্ধ্রপ্রদেশে তেলুগু দেশম, তামিলনাডুতে ডিএমকে-র মতো দল বিজেপির বিজয়রথ রুখে দিতে পারে। তাই এখন এই দলগুলির সঙ্গে শিবসেনা, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। 

তৃণমূলের অন্দরের খবর, উত্তরপ্রদেশে লোকসভার দুটি উপনির্বাচন এবং রাজ্যসভার ভোটে সপা ও বসপা-র মতো ‘অহি-নকুল’ দুই দলের মধ্যে রফাসূত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আপাতত তিনি নেপথ্যে থেকেই কাজ করতে চান। মমতা দু’দিন আগেই বলেছেন, ‘‘বাংলা চেয়ার চায় না। কিন্তু চেয়ার থেকে সরানোর সব ব্যবস্থা করবে।’’ সেই কারণেই টিআরএস নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের কথা বলা মাত্রই মমতা
তাঁকে ফোন করে সঙ্গে থাকার কথা জানান।

অনেকে আবার মমতার এই তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হওয়ার ঘটনায় অন্য তত্ত্ব খাড়া করেছেন। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের মতে, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে যখন একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে এগোনো হচ্ছে, তখন মমতা তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের কথা বলে বিজেপির হাতই শক্ত করছেন।’’

মমতা এ বলেন, ‘‘তৃণমূল আত্মসমর্পণ করবে না। বাংলা নেতৃত্ব দিয়ে পিছনে থাকবে। তোমাদের (বিজেপি) বিসর্জন দেব।’’ আর এই বিসর্জনের মন্ত্র তৃতীয় ফ্রন্ট বলেই
দাবি মমতার।