অকারণ গাড়ির হর্ন বাজানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ গেল এক প্রৌঢ়ের। ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতায়, ভবানীপুরের বকুলবাগানে। বৃহস্পতিবার দুপুরের ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত প্রৌঢ়ের নাম রমেশ বহেল। ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ভবানীপুরের বকুলবাগানের বাসিন্দা। কলকাতার একটি নামী বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার অন্যতম কর্ণধার ছিলেন রমেশ।এ দিন দুপুর ১টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে বকুলবাগান রোড এবং স্যর রমেশ মিত্র রোডের সংযোগস্থলে একটি কাজে গাড়ি থেকে নামেন। কাজ সেরে তিনি ফের নিজের এমইউভি-তে উঠছিলেন।তাঁর গাড়ির চালক পুলিশকে জানিয়েছেন, গাড়িতে ওঠার সময় পেছনে একটি লাল রঙের গাড়ি এসে দাঁড়ায়। বহেলের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় পাশ দিয়ে সেটি যেতে পারছিল না। ফলে অধৈর্য্য হয়ে ক্রমাগত হর্ন বাজাতে থাকেন পিছনের গাড়ির চালক। বহেলের গাড়ির চালকের অভিযোগ, পিছনের গাড়ির চালক বহেল এবং তাঁর উদ্দেশে গালিগালাজও করে।

অকারণ হর্ন বাজানো এবং গালিগালাজ করায় পিছনের গাড়ির চালকের আচরণের প্রতিবাদ করেন রমেশ। অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় পাল্টা মারমুখী হয়ে ওঠেন পিছনের গাড়ির চালক। তিনি গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং তর্কাতর্কির মধ্যেই রমেশ বহেলকে ধাক্কা মারেন।অভিযোগ, ধাক্কা খেয়ে রাস্তাতেই পড়ে সংজ্ঞা হারান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যে ওই পিছনের গাড়ির চালক গাড়ি নিয়ে চম্পট দেন।কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা জানিয়েছেন, ‘‘রমেশ বহেলের গাড়ির চালক প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন:রাজ্যের পুলিশে অনাস্থা, ধনখড়ের নিরাপত্তায় সিআরপিএফ, কখনও দেখিনি, বললেন সুব্রত
আরও পড়ুন:মৎস্যজীবী উদ্ধারের পরে সীমান্তে বিএসএফ-কে গুলি বাংলাদেশি বাহিনীর, মৃত্যু জওয়ানের, জখম ১

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলে কোনও সিসিক্যামেরা না থাকায় ঘটনার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে ওই রাস্তায় অন্য একটি জায়গায় পাওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ওই গাড়িটি চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গাড়িটি এক আইনজীবীর। ভবানীপুর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তিনি। অভিযুক্ত এখনও ফেরার। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

গত অগস্টের শেষ সপ্তাহেই কলকাতা পুলিশ বিনা কারনে হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারে নামে। পাশাপাশি শুরু হয় অকারণ হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে অভিযান। সেই অভিযানে কয়েক হাজার চালককে জরিমানাও করা হয়।