দলীয় কাজে কলকাতার পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় গিয়েছিলেন এক মন্ত্রী। আচমকা সেখানেই খারাপ হয়ে যায় তার পাইলট কার। মন্ত্রীর অনুষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে চলায় কলকাতা থেকে বিকল্প পাইলট কার পাঠিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেওয়া হয়। 

শুধু ওই মন্ত্রী নন, পাইলট কার আচমকা খারাপ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বিচারপতি থেকে নেতা-সহ অনেকের কনভয়েও। লালবাজারের একটি অংশ জানিয়েছে, গত দেড় মাসে ভিআইপিদের কনভয়ের পাইলট কার বিগড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৪টি। তার মধ্যে মন্ত্রীদের কনভয়ে বিপত্তির ঘটনাই বেশি। অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের ওয়্যারলেস বিভাগের দায়িত্বে থাকা পাইলট কারগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না-হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। যদিও ডেপুটি কমিশনার (ওয়্যারলেস) জয়িতা বসু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাইলট কার নেন না। তাঁর মন্ত্রী-নেতারা নিরাপত্তা বিধি মেনে পাইলট কার পান। কনভয়ে সামনে পাইলট কার পান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি-সহ ভিআইপিরা। কলকাতা পুলিশের ওয়্যারলেস বিভাগ সেগুলো সরবরাহ করে। প্রতিটি গাড়িতে চালক ছাড়াও এক জন অফিসার এবং এক জন কনস্টেবল থাকেন।

পুলিশের একাংশের দাবি, বাইরের থেকে ভোট প্রচারে বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী-ভিআইপিরা আসার ফলে লোকসভা ভোটের সময় থেকেই ওয়্যারলেস বিভাগের পাইলট কারের চাহিদা বেড়েছে। তবে সেই সময় পাইলট কারের বিপর্যয় সামনে আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর। কিন্তু গত দেড় মাসে পরপর পাইলট কার বিপযর্য়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।

লালবাজারের একটি অংশের দাবি, ৬০টির বেশি পাইলট কার থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০টি গাড়ি বেরোয় কনভয়কে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ফলে কনভয়ের পাইলট কার খারাপ হলে সুযোগ বুঝে অন্য পাইলট কার পাঠিয়ে অবস্থা সামাল দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকর্মীরা জানাচ্ছেন, বেশির ভাগ সময়েই মন্ত্রীদের কনভয়ে সামনে-পিছনে পাইলট কার থাকে। ফলে গাড়ি খারাপ হলে বিকল্প ব্যবস্থার সাহায্যে অবস্থা সামলানো হচ্ছে। কিন্তু বাইরে কোথাও মাঝপথে পাইলট কার খারাপ হলে কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পুলিশকর্মীরা।