কাশ্মীর-ফেরত দক্ষিণ দিনাজপুরের ১১২ জন শ্রমিকের সঙ্গে আজ, মঙ্গলবার ভোরে বুনিয়াদপুরে দেখা করার কথা তৃণমূল জেলা সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষের। সোমবার বিকেলে জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেসে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছন এ রাজ্যের ১৩৩ জন শ্রমিক। রাজ্য সরকারের তরফে রাতে তাঁদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর পরে প্রতিটি জেলার শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। কলকাতা থেকে বালুরঘাটে পৌঁছতে দক্ষিণ দিনাজপুরের ১১২ জন শ্রমিক বাসে রওনা হন। অন্য দিকে, উত্তর দিনাজপুরের ৬ জন এবং মালদহের একজন শ্রমিকও রওনা দেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার যাবতীয় বন্দোবস্ত করেন বলে জানা গিযেছে।

অর্পিতা এ দিন বলেন, ‘‘জেলার ১১২ শ্রমিকের সঙ্গে মঙ্গলবার ভোরে দেখা করছি। তাঁদের প্রত্যেককে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব। এ নিয়ে ববিদার (পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম) সঙ্গেও কথা হয়েছে।’’

দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির হরিরামপুর ব্লক থেকে কাশ্মীরে গিয়ে কাজ করতেন ওই ১১২ জন শ্রমিক। জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জেলা থেকে কত জন শ্রমিক কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়েছেন, তার কোনও তথ্য ছিল না। জঙ্গি হামলার ঘটনার পরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কাশ্মীরে কর্মরত বাকি শ্রমিকেরাও। রাজ্যের মোট ১৩৩ জন শ্রমিকের হদিশ পেয়ে তাঁদের নিরাপদে ফেরাতে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখনই জানা যায়, কাশ্মীর-ফেরত ওই শ্রমিকদের মধ্যে ১১২ জনই দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক অফিসারে কথায়, বালুরঘাট, হিলি, হরিরামপুর কিংবা কুমারগঞ্জ থেকে ভিন্ রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের গন্তব্য দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র। কাশ্মীরে কাজে যাওয়ার বিষয়টি শ্রমিকদের সকলেই গোপন রাখেন।

এ দিন দুপুরে কলকাতা থেকে পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ দলের বালুরঘাটের নেত্রী অর্পিতাকে ফোন করে ওই শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরাতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এ দিন বিকেলে অর্পিতা জানান, সোমবার রাতে কলকাতা থেকে বাসে করে ওই শ্রমিকেরা মঙ্গলবার ভোরে জেলায় ফিরবেন। বুনিয়াদপুরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের প্রাতঃরাশের ব্যবস্থা করবেন তিনি। দলীয় সূত্রের খবর, ওই শ্রমিকদের হাতে নতুন পোশাক ও গামছা তুলে দেওয়া হবে।

বুনিয়াদপুর থেকে একদিকে হরিরামপুর ও কুশমণ্ডি ব্লক। অন্য দিকের রাস্তা ভাগ হয়ে বংশীহারি, গঙ্গারামপুর, তপন, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট ও হিলি ব্লকে চলে গিয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, ওই ব্লকগুলির বাসিন্দা ওই শ্রমিকদের একসঙ্গে বুনিয়াদপুরে পেয়ে তাঁদের মঙ্গলবার ভোরে বাস থেকে নামিয়ে স্বাগত জানাবেন অর্পিতা। এর পরে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।