সাত সকালেই হুলস্থুল কাণ্ড। মঙ্গলবার তখন ১০টা। পুলিশে ছয়লাপ ঘাটাল আদালত চত্বর। তারপর ঢুকতে শুরু করল একের পর এক গাড়ি। নামানো হল সিল করা ট্রাঙ্ক, টাকা গোনার মেশিন।

কীসের এত আয়োজন? আদালত চত্বরে উপস্থিত লোকজন প্রথমে বুঝতে পারেননি হচ্ছেটা কী। ক্রমশ জানাজানি হয়, দাসপুর সোনা প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের মাদুরদহের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত টাকা-সোনা আদালতে জমা করবে সিআইডি। সে জন্যই এত আয়োজন। এক আইনজীবীর কথায়, “নিখুঁত ভাবে যাতে গোটা প্রক্রিয়া মেটানো যায়, তাই এত ব্যবস্থা করা হয়েছে।” সিআইডি সূত্রের খবর, রাত পর্যন্ত
আদালতে টাকা গোনা চলেছে। চলেছে গয়না ওজন করা। সিআইডি সূত্রের খবর, নগদ টাকার অঙ্কই পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

সিআইডি সূত্রের খবর, দাসপুর সোনা প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে ভারতীর মাদুরদহের বাড়িতে তল্লাশির সময় টাকা, সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছিল। পাওয়া গিয়েছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি, জমির দলিল প্রভৃতি। এতদিন এই সব টাকা-নথি সিআইডির হেফাজতেই ছিল। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছে। তাই এ বার ওই সম্পত্তি ঘাটাল আদালতে
জমা করছে সিআইডি। এ দিন সিআইডির পদস্থ আধিকারিকরা ঘাটালে আসেন। সাড়ে ১২টার পর ঘাটাল আদালতের ভিতরে বিচারকের তদারকিতেই মেশিনের সাহায্যে টাকা গোনা শুরু হয়। একই সঙ্গে সোনা ওজন করার আধুনিক যন্ত্রাংশে সোনার গয়নার হিসেবও চলে। বিষয়টি চাউর হতেই আদালত চত্বরে উৎসাহী মানুষের ভিড় জমে যায়। সিআইডির এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই টাকা ও গয়নার হিসেব আদালতে নথিভুক্ত করে ট্রেজারিতে
রাখা হয়েছে।’’

চলতি বছরের গোড়ায় ভারতীর বিরুদ্ধে বাতিল টাকার বিনিময়ে সোনা কেনাবেচার অভিযোগ সামনে আসে। ওই মামলায় ভারতী এখনও অধরা। তাঁর স্বামী জেল হেফাজতে। বাকি সব অভিযুক্ত এখন জামিনে মুক্ত।