পড়ুয়াদের মধ্যে মূল্যবোধ তৈরি করতে এ বার স্কুল স্তরে নীতিশিক্ষা পড়ানো হবে। বইয়ের নাম ‘জগৎবাড়ি।’ সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার বলেন, ‘‘বইয়ের কাজ চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ‘জগৎবাড়ি’ নামে মূল্যবোধের উপরে এই বই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠক্রমে থাকবে। পড়ুয়াদের রুটিনেও থাকবে মূল্যবোধের উপরে ক্লাস।’’

অভীকবাবু জানিয়েছেন, নানা রকম ছবি দিয়ে এই বইয়ে থাকবে মূল্যবোধের উপরে পাঠ। যেমন রাস্তায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে দেখলে তাঁদের রাস্তা পার হতে সাহায্য করা, গাড়িতে বয়স্কদের জায়গা ছেড়ে দেওয়া, এলাকায় গাছ লাগানো, প্লাস্টিক ব্যবহার না করা ইত্যাদি। তিনি আরও জানান, নীতিশিক্ষার উপর আলাদা কোনও পরীক্ষা হবে না। তবে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এই মূল্যবোধের ক্লাস চলবে সারা বছর ধরেই। এই বই বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারবে পড়ুয়ারা।

মূল্যবোধের উপর আলাদা করে নির্দিষ্ট কোনও বই না থাকলেও সারা বছরই মূল্যবোধের পাঠ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন রামমোহন মিশন হাইস্কুলের অধ্যক্ষ তথা আইসিএসই স্কুলগুলির সংগঠনের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি সুজয় বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘‘আইসিএসই বোর্ডের স্কুলগুলিতে নীতি শিক্ষার জন্য ‘মরাল সায়েন্সের’ ক্লাস হয়। কোনও নির্দিষ্ট বই নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের পছন্দের বই পড়ান। গল্পের মাধ্যমে পড়ুয়াদের নীতিশিক্ষা ও মূল্যবোধ তৈরি করা হয়।’’

অন্য দিকে সিবিএসই বোর্ড অনুমোদিত শ্রী শিক্ষায়তন স্কুলের মহাসচিব ব্রততী ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে ভ্যালু এডুকেশনের উপরে খুব জোর দেওয়া হয়।  ক্লাসে গল্পের মাধ্যমে নীতিশিক্ষা শেখানো হয়। আলাদা করে কোনও বই থাকে না। শিক্ষিকারা নিজেদের পছন্দের বই পড়িয়ে নীতিশিক্ষা দিয়ে থাকেন।’’

তবে রাজ্যের সরকারি, সরকার পোষিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, নীতিশিক্ষা নিয়ে তাঁরা ক্লাসে আলোচনা করেন। ওই বিষয়ের জন্য আলাদা কোনও ক্লাস হয় না। আলাদা বইও নেই। নীতিশিক্ষার উপরে আলাদা বই থাকলে বা আলাদা ক্লাস হলে তা পড়ুয়াদের পক্ষে খুব ভাল হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।

মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনের (মেন) সহকারি শিক্ষক প্রণব বড়ুয়া বলেন, ‘‘ক্লাসে পড়ানোর সময় আমরা নীতিশিক্ষা দিই। তবে এ নিয়ে আলাদা বই থাকলে ও ক্লাস হলে খুবই উপকৃত হবে পড়ুয়ারা।’’

হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত বলেন, ‘‘বর্তমানে ইঁদুর দৌড়ে শামিল হতে গিয়ে নীতি শিক্ষা, মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে ছেলেমেয়েরা। আগে আমরা নীতিশিক্ষার উপরে আলাদা কোনও পাঠ্য বই ব্যবহার করিনি। শিক্ষক শিক্ষিকারা বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে নীতি শিক্ষা দেন। আলাদা করে কোনও নির্দেশিকা নেই। সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’’