পাহাড়ের টানে ঘর ছেড়ে হিমালয়ের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন বিপ্লব বৈদ্য এবং কুন্তল কাঁড়ার। কিন্তু অভিযানে বেরিয়ে গত বুধবার কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকেই চিরঘুমে তলিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এ বার তাঁদের ‘ঘরে ফেরার’ পালা। মৃত্যুর তিন দিন পরে, শনিবার বিপ্লব ও কুন্তলের দেহ উদ্ধার করল ছ'জন অভিজ্ঞ শেরপার দল। ইতিমধ্যেই তাঁদের দেহ ‘ক্যাম্প টু’-এ পৌঁছে গিয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আজ, রবিবার তাঁদের দেহ হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নামিয়ে আনা হবে বলে খবর।

তবে মাকালু অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আর এক বাঙালি পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের এখনও কোনও খবর নেই। গত বৃহস্পতিবার মাকালু শৃঙ্গারোহণ বা ‘সামিট’ করে ফেরার সময় ‘ক্যাম্প ফোর’-এ পৌঁছনোর আগেই তুষারঝড়ের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তার পর থেকেই খোঁজ মিলছে না তাঁর। প্রাথমিক উদ্ধারকাজে শেরপারা গেলেও দীপঙ্করকে খুঁজে পাননি তাঁরা।

বেস ক্যাম্প সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপ্লব ও কুন্তলকে ফেরাতে শুক্রবার বিকেলে সেখান থেকে রওনা হয়েছিল উদ্ধারকারী দলটি। প্রচণ্ড হাওয়ার মধ্যে টানা হেঁটে রাত আড়াইটে নাগাদ তাঁরা পৌঁছন সেই জায়গায়, যেখানে পড়ে ছিলেন দুই অভিযাত্রী। তার পরে তাঁদের দেহ নিয়ে সোজা ক্যাম্প টু-তে নেমে আসেন শেরপারা।

কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করে ফেরা বাকি দুই অভিযাত্রী রুদ্রপ্রসাদ হালদার ও রমেশ রায় আপাতত ভাল রয়েছেন। হাসপাতালে দুজনেরই চিকিৎসা চলছে। রুদ্রপ্রসাদ শনিবার বলেন, ‘‘ভাল আছি। এক সঙ্গেই দু’জনে বাড়ি ফিরব।’’ বিপদের দিনে পাশে থাকতে শুক্রবারই কাঠমান্ডু পৌঁছেছিলেন মলয় মুখোপাধ্যায়, চন্দন বিশ্বাস-সহ রাজ্যের অন্য কয়েক জন পর্বতারোহী। পৌঁছেছেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও। এ দিন মলয় সেখান থেকে বলেন, ‘‘পুণের অভিযাত্রী দলের প্রধান উমেশ জিরপে যে ভাবে ওঁদের সাহায্য করেছেন, দেহ উদ্ধারের কাজ দেখভালের জন্য নিজে বেসক্যাম্পে রয়ে গিয়েছেন, তা ভোলার নয়। আমরা ওঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’’

খারাপ আবহাওয়ার কারণে আগামী ২২ মে-র আগে ফের উদ্ধারকাজ সম্ভব নয় বলে দীপঙ্করের অভিযান আয়োজনকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। যে জায়গায় তাঁকে শেষ বারের মতো দেখা গিয়েছিল, তার উচ্চতা আট হাজার মিটারের বেশি হওয়ায় হেলিকপ্টারে উদ্ধারও সম্ভব হচ্ছে না। এ দিকে সময় পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে দীপঙ্করকে ফিরে পাওয়ার আশা।