পুলিশের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ৯ বছর আগে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন মুকুল রায়। রবিবার নানুরে এসে সেই একই দাবি তুললেন তিনি।

সালটা ছিল ২০১০। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নানুরের তাকোড়া গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূলের ব্লক সাধারণ সম্পাদক মুন্সী নুরুল ইসলাম ওরফে সোনা চৌধুরী খুন হন। সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের অভিযোগ ওঠে। সে দিন অন্য নেতাদের সঙ্গে নিহতের বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন তৃণমূলের অন্যতম নেতা মুকুল রায়ও। সোনা চৌধুরীর বাড়িতে দাঁড়িয়ে রাজ্য পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

এ দিন ওই গ্রাম লাগোয়া রামকৃষ্ণপুরে দাঁড়িয়ে ফের সিবিআই তদন্তের পক্ষে সওয়াল করলেন মুকুল। বিজেপির এই নেতার কথায়, ‘‘আমি নয়, নিহতের পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ওই দাবি তুলেছেন। আমরাও মনে করি সিবিআই ছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।’’ ঘটনা গল, ৭ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াই গুলিবিদ্ধ হন। রাজনৈতিক আক্রোশে তাঁকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরের দিন কলকাতার এক নার্সিংহোমে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরে দু’দিন ধরে দেহ নিয়ে পুলিশ, প্রশাসনের সঙ্গে পরিবারের লোক এবং বিজেপি নেতৃত্বের টানাপড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে কাটোয়া মহাশ্মশানে শেষকৃত্য হয়। ঘটনাচক্রে, ওই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে নিহত সোনা চৌধুরীর ছেলে বাপ্পা এবং ভাইপো আলো চৌধুরীর। ৯ বছর আগে এই সোনা চৌধুরীর 

ছেলের পাশে দাঁড়িয়েই ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন মুকুল। তবে সেই মামলা এখনও বিচারাধীন।

রবিবার পৌনে একটা নাগাদ নিহতের বাড়িতে পৌঁছন মুকুল। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ, এলাকার প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা প্রমুখ। নিহতের পরিবারকে কিছু অর্থ সাহায্যও করেন। তার পরেই নিহতের বাড়িতে দাঁড়িয়ে মুকুল অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি করেন।