একটি সংস্থায় দলের একটিই শ্রমিক সংগঠন রাখার জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার পরেও বিভিন্ন সংস্থায় তৃণমূলের একাধিক শ্রমিক সংগঠনের ঝগড়াঝাঁটি লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেত্রীর নির্দেশে তৃণমূল নেতৃত্ব ফের দলের শ্রমিক নেতাদের জানিয়ে দিলেন— কোনও সংস্থায় আইএনটিটিইউসি-র একাধিক ইউনিট রাখা যাবে না।

উত্তরবঙ্গের চা বাগানের তৃণমূল সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলিকে এক ছাতার তলায় আনা নিয়ে শনিবার সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠক করেন। চা বাগানে এখন থেকে দলের একটি শ্রমিক সংগঠন কাজ করবে বলে জানান দলীয় নেতৃত্ব।  

বিভিন্ন সংস্থায় দোলা সেন এবং নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ইউনিয়নের দ্বৈরথ থামাতে প্রকাশ্যেই বহু বার সতর্ক করেছেন মমতা। কিন্তু বিবাদ থামেনি। এ দিনও ওই দু’জনকে পাশে বসিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আইএনটিটিইউসি-র বহু সংগঠন নিয়ে দলে সমস্যা কার্যত স্বীকার করেই পার্থবাবু বলেন, ‘‘৮০% জায়গায় সমস্যা মিটেছে। ২০ শতাংশে সমস্যাটা রয়েছে।’’ নেত্রীর নিষেধ কেন অমান্য করছেন আইএনটিটিইউসি নেতারা? পার্থবাবু বলেন, ‘‘দল বড় হলে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক এসে যায়। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’’

এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই বর্ধমানের কুলটিতে একটি কারখানায় আইএনটিটিইউসি-র কমিটি গড়া নিয়ে চাপান-উতোর শুরু হয়েছে তৃণমূলে। ‘কুলটি সেল গ্রোথ ওয়ার্কস ডিভিশন’-এর জন্য শনিবার মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় আইএনটিটিইউসি-র একটি কমিটি ঘোষণা করেন। সেটির সভাপতি সুব্রতবাবুই। এর পরই বিতর্ক হয়। আইএনটিটিইউসি-র আসানসোল জেলা কমিটি আগেই ভাঙা হয়েছে। এখনও নয়া কমিটি হয়নি। সেখানে এই শাখা কমিটি কী ভাবে হতে পারে, এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশ। আসানসোল জেলা তৃণমূল সভাপতি ভি শিবদাসন বলেন, ‘‘এই কমিটির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার কাছে কেউ অনুমোদন নেননি।’’ সুব্রতবাবু বলেন, ‘‘এখন জেলা কমিটি নেই। সব কাজ কলকাতা থেকে হচ্ছে। আমি কলকাতা থেকে এই কমিটির অনুমোদন করিয়ে নেব।’’