সদ্য তাঁর লেখা-গাওয়া গান তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, ‘যাঁরা খেয়েছেন কাটমানি, দাদারা অথবা দিদিমণি’। প্রশ্ন উঠেছিল, তা হলে কি শাসকদলের সঙ্গে এ বার তাঁর দূরত্ব বাড়ল? তাই রবিবার ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে তিনি আসবেন কি না তা নিয়ে কৌতূহল ছিলই। কিন্তু সকাল-সকালই তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চে পৌঁছে গেলেন সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। কাটমানির গান নয়, নচিকেতা গাইলেন ‘আলোকের এই ঝর্নাধারায়’।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি দলীয় বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কাটমানি কেউ নিয়ে থাকলে তা ফেরত দিতে হবে। তার দিন কয়েকের মধ্যেই নচিকেতার সেই বিতর্কিত গান সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়। গানের কথার মধ্যে ‘দিদিমণি’, ‘আসছে দিন’-এর মতো শব্দ শুনে প্রশ্ন উঠছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছের এই শিল্পী এ বার অন্য দিকে ঘুরছেন কি না? যদিও নচিকেতার ব্যাখ্যা ছিল যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই গানটি লিখেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে তার বিরোধিতা করা।

এ দিন সকাল ১১ টার আগেই সমাবেশ মঞ্চে পৌঁছে যান নচিকেতা। মঞ্চে গান গাওয়ার পরে সঞ্চালক-মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সী, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ও হাততালি দিয়ে নচিকেতাকে অভিবাদন জানান।

এ দিনের সমাবেশে বারবারই ‘কাটমানি’ প্রসঙ্গ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মহৎ উদ্দেশ্যে কাটমানি ফেরানোর কথা বলেছিলাম। চোরেদের সরকার, তারা আবার বলছে তৃণমূল কাটমানি ফেরত দাও। নির্বাচনে কত টাকা নিয়েছ? নোটবন্দির পরে ফিরিয়ে দেওয়া কালো টাকা ব্লকে ব্লকে, অঞ্চলে অঞ্চলে ফিরিয়ে দাও।’’

সেই সুর টেনেই নচিকেতা পরে বলেন, ‘‘দিদি ভাষণে যা বলেছেন আমি গানে সেটাই ব্যাখ্যা করেছি। রাজ্যে কতটুকুই বা দুর্নীতি হয়েছে। সারা ভারতের ছবিটা দেখুন। কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।’’ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশে তিনি যে সর্বদা রয়েছেন তার উল্লেখ করে নচিকেতার দাবি, ‘‘আমি বরাবরই ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে। ধর্মীয় গোঁড়ামিকে যারা রাজনীতিতে তুলে ধরে তাদের কখনওই সমর্থন নয়।’’

কিন্তু ‘কাটমানি’ গানটি গাইলেন না? নচিকেতার জবাব, ‘‘শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠানে এই গান গাওয়া ঠিক নয়।’’ নচিকেতা কাটমানির গান না গাইলেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা করেছেন অনেকেই। তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, ‘‘সারা ভারতে যে দুর্নীতি চলছে সেটাই নচিকেতা তাঁর গানে তুলে ধরেছেন। তাঁর এ দিন শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে থাকা প্রমাণ করে যে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন।’’ প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘নচিকেতা সার্বিক একটা বিষয়কে গানের মাধ্যমে এনে নিজের পেশাগত সাফল্যকে তুলে ধরেছেন।’’

অসুস্থ শরীরে দুপুর রোদের মধ্যে সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ও। পরে প্রতুলবাবু বলেন, ‘‘কোনও দলই ক্রুটিমুক্ত নয়। তবে দেশের মধ্যে একটি প্রধান রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের রুচি-সংস্কৃতিতে থাবা বসাচ্ছে। যারা বিরোধিতা করছে তাদের পাশে দাঁড়াতেই এ দিনের সভায় হাজির ছিলাম।’’