ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের বদলে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও কোনও দলের কাছ থেকে সেই দাবিতে সমর্থনও পেয়েছেন। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা শুক্রবার কলকাতায় স্পষ্ট করে দিলেন, ব্যালট পেপার অতীত। তাঁরা আর পিছনে ফিরতে চান না। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এ দিন সকালে শহরে আসেন অরোরা। তার মধ্যেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়ে দেন, ব্যালটে ফেরার সম্ভাবনা নেই। 

লোকসভা ভোটের পরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদের অনেকেই। তৃণমূল নেত্রী মমতা তো বলেই দিয়েছেন, রাজ্যের পুর ও পঞ্চায়েত ভোট ব্যালট করানো হবে। এই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটের পরে শহরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বললেন, ‘আমরা ব্যালটে ফিরব না।’’ এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের মনোভাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্যালট নিয়ে তাঁর যুক্তি ও বক্তব্য জোরালো করেন চেষ্টা করেন অরোরা। 

চলতি বছরের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশেও ব্যালট পেপার ফেরানোর দাবি তোলে তৃণমূল। সেখানে মমতার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ব্যালটের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তৃণমূল চাইলেও সেই দাবি অবশ্য সটান খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি তারা বিজ্ঞাপন দিয়েও মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, ইভিএম বিকৃত করা যায় না। তার পরেও ব্যালট পেপারের পক্ষেই দাবি জানিয়ে চলেছেন অনেকে। কিন্তু দেশের ভোট পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, সেই কমিশনের প্রধানই এ দিন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিরোধীদের ব্যালটের দাবি নসাৎ করে দিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না অরোরা। এ দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের এনআরসি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এখানে এনআরসি হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি অরোরা। এই বিষয়ে তিনি কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।