গুলিবিদ্ধ হয়ে মহিলার মৃত্যুর এক দিনের মধ্যেই এক জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। খোঁজা হচ্ছে আরও চার অভিযুক্তকে। নানুর পুলিশ জানায়, ধৃতের নাম মঙ্গল বাগদি। মঙ্গলবার বোলপুর আদালতে হাজির করিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য ধৃতের পাঁচ দিনের হেফাজত চায় পুলিশ। আদালত তা মঞ্জুর করে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সোমবার গুলি চলে নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামে। ওই বধূকে গ্রামেরই এক যুবক উত্ত্যক্ত করতে বলে অভিযোগ। তাই নিয়ে বচসার জেরে বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়। তখন গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাতে অভিযুক্তের মা শঙ্করী বাগদির মৃত্যু হয় বলে নিহতের পরিবারের দাবি। পুলিশ জানায়, গুলি চালনার ঘটনায় ওই দিনই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশের দাবি, মঙ্গল বাগদি নামে মূল অভিযুক্তকে ধরা হয়েছে। ধৃতকে জেরা করে গুলি চালনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার ময়না-তদন্তের পরে সৎকারের জন্য দেহ নিতে বোলপুর হাসপাতালে এসেছিলেন তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ, নানুরের যুবনেতা তথা ব্লক কার্যকরী সভাপতি কাজল শেখ, বোলপুর পুরসভার কাউন্সিলর অমর শেখ প্রমুখ। নেতাদের সামনে নিহতের ছেলে উদয় বাগদি নিজেকে তৃণমূল কর্মী হিসেবে দাবি করেন। অভিযোগ করেন, ‘‘আমার মাকে যারা মেরেছে তারাও তৃণমূল। ওদের কঠিন শাস্তি চাই।’’ তা হলে কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই খুন? উদয়ের কথায়, ‘‘এখন মাথার ঠিক নেই। তাই আর কিছু বলতে পারব না।’’

নানুরের যুবনেতা কাজল শেখ বলেন, ‘‘দু’পক্ষই আমাদের সমর্থক। পারিবারিক বিবাদে ওই ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিহত পরিবারের পাশে আছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।’’ সোমবার নিহত মহিলাকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেছিলেন বিজেপির নানুর মণ্ডল কমিটির সভাপতি বিনয় ঘোষ। এ দিনও তিনি দাবি করেন, ‘‘অন্য সময় যা হয়, এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ভয় কিংবা প্রলোভনে নিহতের পরিবার রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করছে।’’ এ দিন সিউড়িতে জেলা সংশোধনাগারে থাকা দুই বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে এসেও দলের রাজ্য সহ-সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী নিহতের পরিবার বিজেপি করে বলে দাবি করেন।