একটি বুথে ভোট পড়েছে মোট ৬০৭টি। তার মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ৬০৩। সিপিএমের বাক্সে ২, বিজেপি শূন্য!

কোনও বুথে ভোট পড়েছে ৬৪৭। তার মধ্যে ৬৪২টি তৃণমূলে। বাকি বিরোধীরা মিলে ৫ ভোট।

আবার কোনও বুথে ৫৫২টি ভোট পড়েছে। একা তৃণমূলই পেয়েছে ৫০৭।

এ বার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বুথওয়াড়ি হিসেব ধরলে উঠে আসছে এমনই তথ্য! যেখানে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান তিন লক্ষ ২০ হাজার ৫৯৪। তার মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটের ব্যবধান হাসিল হয়েছে ৩৩৩টি বুথ থেকে। বাকি প্রায় ১৬০০ বুথ থেকে এসেছে ৭০ হাজারের মতো। ঘটনাচক্রে, পাঁচ বছর আগের তুলনায় ডায়মন্ড হারবারে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ বার জয়ের ব্যবধান বেড়েছে প্রায় আড়াই লক্ষই।

ওই ৩৩৩টি বুথের এক একটিতে গড়ে কোথাও ৯২%, কোথাও প্রায় ১০০% ভোটই পড়েছে তৃণমূলের বাক্সে! বিরোধীদের প্রশ্ন, এমন ভোট কি কখনও ‘স্বাভাবিক’ হতে পারে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার অভিযোগ করে আসছেন, বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রে (ইভিএম) কারচুপি করে জিতেছে বিজেপি। তাঁর ওই মন্তব্যের সূত্রেই বিরোধীদের প্রশ্ন, ডায়মন্ড হারবারে কি ইভিএমে ‘অন্য ভূত’ ছিল? তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোট হওয়ার পরেও বিরোধীদের এমন অভিযোগ অসার। বিরোধীদের আবার পাল্টা প্রশ্ন, তা হলে ইভিএম নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগও কি ‘অসার’?

ব্যাপক ‘ভোট লুটে’র অভিযোগ করে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিল সিপিএম ও বিজেপি। বিশেষত, ৩৩০টি বুথ নিয়ে নির্দিষ্ট করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল কমিশনে। বুথওয়াড়ি হিসেব হাতে নিয়ে বিরোধী শিবিরের নেতারা এখনও অপেক্ষা করছেন কমিশনের তরফে কোনও পদক্ষেপের জন্য। নইলে আইনি পথে যাওয়ার ভাবনাও শুরু হয়ে গিয়েছে।

বিধানসভা এলাকা ধরে বুথওয়াড়ি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তৃণমূল ছাড়া আর কেউ ভোটে দাঁত ফোটাতেই পারেনি। বজবজ, মেটিয়াব্রুজ, ফলতায় এমন ‘একতরফা’ ভোটের তথ্য বেশি। বিষ্ণুপুর, ডায়মন্ড হারবার, সাতগাছিয়া, মহেশতলা বিধানসভা এলাকার মধ্যেও এমন বুথ আছে। এবং এই ৭টি বিধানসভা এলাকা থেকেই ‘লিড’ পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক। তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি ‘লিড’ মেটিয়াব্রুজ থেকে— ৮৭ হাজার ১৭৬।

ডায়মন্ড হারবারে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায় বলছেন, ‘‘বেশ কিছু বুথে আমরা শূন্য থেকে কুড়ির মধ্যে ভোট পেয়েছি। এমন বুথের সবিস্তার তথ্য দিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছি।কিন্তু কমিশন কিছু করছে না। হাইকোর্ট খুললে আদালতে যেতে পারি।’’ সিপিএমের প্রার্থী ফুয়াদ হালিমের অভিযোগ, ‘‘প্রচারের সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারে সুষ্ঠু নির্বাচনই হয়নি।ওই সব বুথ থেকে আমাদের এজেন্ট বার করে দিয়ে ভোট লুট করা হয়েছিল। ভোটের দিন কমিশনকে ছবি তুলে পাঠিয়েও লাভ হয়নি। স্ক্রুটিনিতে আমাদের ভিডিয়ো ফুটেজ দেখানো হয়নি, রি-স্ক্রুটিনির ঘোষণা করেও বাতিল করা হয়েছে।’’ কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘ওই সব বুথে ভূত-পেত্নী দাপিয়ে বেড়িয়েছে!’’

তবে তৃণমূলের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতেই ভোট হয়েছে। বিরোধীরা তো অনেক কিছুই বলে! তা ছাড়া, সংখ্যালঘু অনেক এলাকায় আমরা প্রায় ১০০% ভোট পেয়েছি। ওই বুথগুলো কোন এলাকায়, সেটা দেখলে ভোটটা অনেকটা বোঝা যাবে।’’