দুয়ারে কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে দলের গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাওয়াই, ‘‘আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। ফিরিয়ে আনুন পুরনো কর্মীদের।’’

রবিবার কৃষ্ণনগরের এভি স্কুলের মাঠে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল জেলা তৃণমূল কমিটি। এ দিন প্রথম থেকেই বিজেপি-র প্রতি আক্রমণাত্মক ছিলেন মহাসচিব। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার ভোটে জিতে হনুমানের মতো লম্ফঝম্প করার কী আছে? হনুমানের যেমন লেজে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরে সব পুড়িয়েছিল, এরাও তেমন পোড়াতে চাইছে।”

পার্থ বলেন, “পদ্মফুল পদ্মফুল বলে যতই চিৎকার করো, এ রাজ্যে পদ্মফুল ফুটবে না।” ত্রিপুরার ভোটে বিজেপি প্রচুর অর্থব্যয় করেছে বলেও তিনি এ দিন দাবি করেন। জেলায় দীর্ঘ দিন পর্যবেক্ষক ছিলেন অধুনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়। ভিতরে ভিতরে তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও যে নেহাতই কম নয় তা জানেন তৃণমূল নেতারাও। মুকুলের নাম না করে পার্থ এ দিন বলেন, “আপনাদের অনেকেই তাঁর হাত ধরে এসেছেন। তাঁরা থাকুন। আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু দলে ঘুণ ধরানোর চেষ্টা করবেন না।”

এ দিন দলের নেতা-কর্মীদেরও সতর্ক করেছেন পার্থ। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধানদের সব থেকে বেশি সুযোগ আছে মানুষের সঙ্গে মেশার, পাশে থাকার। কিন্তু অনেক জায়গাতেই দেখছি, পাশে না থেকে অন্য কাজ করছে।” দ্বন্দ্ব ভুলে পুরনো তৃণমূল কর্মীদের ডেকে নিতে বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘কে এলাকায় নেতা হবেন, তা নিয়ে গণ্ডগোলে পুরনোরা বসে যাবেন, এটা হতে পারে না।” মুকুলের নাম না করে ফের পার্থ বলেন, ‘‘যে চলে গিয়েছে এটা তার ফর্মুলা ছিল। দু’তিনটে গ্রুপ তৈরি করে দাও। যে জিতবে তাকে নিয়ে গিয়ে বলা যে, ‘দিদি জিতিয়ে আনলাম।’ মনে রাখবেন বিবাদ নয়, একতা। গোষ্ঠী নয়, পতাকা। নেত্রী আমাদের মমতা।” চাকদহে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না মেটালে তিনি নিজেই তা মিটিয়ে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। সেই সঙ্গে পলাশিপাড়ার বিধায়ক তাপস সাহাকেও পার্থ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশ্বনাথ ঘোষের সঙ্গে তাঁর গণ্ডগোল না মিটলে দল ব্যবস্থা নেবে।

পার্থের সুুরেই নাম না করে মুকুলকে আক্রমণ করে এ দিন জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেছেন, ‘‘তাঁকে যারা প্রশ্রয় দেবেন, তাঁদের সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে।’’ এ দিনের সম্মেলনে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার কথা বলতে গিয়ে কেঁদেও ফেলেন গৌরী। কর্মীদের তিনি বলেন, ‘‘বেঁচে থাকি বা না থাকি, আপনারা সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে জেলায় এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না।’’