বাড়ির কাছে স্কুলঘরে পাওয়া গিয়েছিল দীপক হালদারের ঝুলন্ত দেহ। দু’মাস আগে ওই ঘটনার পর থেকে দীপকের বড় মেয়ে সুপ্রিয়া অনেককে জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘‘সরকার লটারি খেলা বন্ধ করে দেয় না কেন? তা হলে তো বাবাকে মরতে হত না!’’

গাইঘাটার দিঘা সুকান্তপল্লির বাসিন্দা ছিলেন দীপক। রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। হিমশিম খেতেন স্ত্রী এবং চার মেয়ের সংসার চালাতে। ফাটকা রোজগারের আশায় লটারির টিকিট কেনা নেশা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ধার করেও টিকিট কাটতেন দীপক। সেই ধার শোধ করতে না-পারার জন্য ভুগছিলেন মানসিক অবসাদে। ঘটনার মাস চারেক আগে বাবার ট্রাউজার্সের পকেট থেকে গোছা গোছা লটারির টিকিট পেয়েছিলেন সুপ্রিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘টিকিট কেনার কারণে বাবা সংসার চালাতে পারছিল না। কথা দিয়েছিল, আর টিকিট কিনবে না। শেষ পর্যন্ত তা রাখতে পারেনি।’’ দীপকের স্ত্রী শিপ্রা এখন পরিচারিকার কাজ করেন।

লটারির টিকিট সর্বনাশ ডেকেছে প্রৌঢ়া শঙ্করী বিশ্বাসের ঘরেও। বাগুইআটির বাজারে আনাজের বড় ব্যবসা ছিল শঙ্করীদেবীর স্বামী সুখময়ের। এখন সামান্য আলু-পেঁয়াজ আর ডিম বেচে সংসার চলে বিশ্বাস পরিবারের। শঙ্করীদেবী জানান, লটারিতে কখনও চার হাজার, কখনও পাঁচ হাজার টাকা পেয়ে ছিলেন সুখময়। বছর দুয়েক আগে ৪০ হাজার টাকা পাওয়ার পরে আর রোখা যায়নি তাঁকে। রোজ তিন-চার হাজার টাকার টিকিট কেটেছেন। কিন্তু সুসময় আর আসেনি। ধীরে ধীরে দেনার দায়ে বিকিয়ে গিয়েছে ভিটে। এখন এক কামরার ভাড়াঘর। 

তবু এর পরেও খেলা চলে। কারণ, হাসনাবাদের দর্জি মন্টু আড়ির আশা, এক দিন বড় অঙ্কের পুরস্কার পাবেন। প্রতিদিন অন্তত ১০০ টাকার টিকিট কাটেন। জানান, ১৬ বছর ধরে সাত-আট লক্ষ টাকার টিকিট কিনে ফেলেছেন। বড় অঙ্কের পুরস্কার মিলেছে দু’বার— ৯০ ও ৪৫ হাজার টাকার। ব্যান্ডেল লোকোপাড়ার বাসন ফেরিওয়ালা শেখ কাদের মাস সাতেক আগে ৩০ টাকায় পাঁচটা লটারির টিকিট কিনে ২৫০ টাকা পেয়েছিলেন। ব্যস, নেশা চেপে গেল। কাদের স্বপ্ন দেখেন, এক দিন ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার পাবেন। তাই রোজগারের বেশির ভাগই লটারিতে উড়িয়ে দেন। 

খেলা এ ভাবেই চলে। চলতেই থাকে!