তোলাবাজির টাকা ফেরাতে মঙ্গলবার দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি জেলায় টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূলের নেতাদের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন এলাকার মানুষ।

মঙ্গলবার রাত থেকেই এই ধরনের ঘটনা শুরু হয়। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বর্ধমান, বীরভূম, হুগলির মতো বিভিন্ন জেলায় টাকা চেয়ে বিক্ষোভ থেকে হামলা বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। পুলিশও ডাকতে হয়।

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় একে ‘ঘোলা জলে মাছ ধরা’র চক্রান্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যকে ঘুলিয়ে দিতে যারা এ সব করছে, তারা ‘ভুল পথে’ পরিচালিত। আইনশৃঙ্খলার কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ প্রশাসনের তা দেখা উচিত।

মঙ্গলবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের ২ নম্বর ব্লকের এক নেতার বাড়িতে গিয়ে তোলার টাকা ফেরত চেয়ে হামলা চালিয়েছে জনতা। বুধবার বীরভূমের ইলমবাজারে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে দুই নেতাকে উদ্ধার করতে পুলিশ ডাকতে হয়েছে। তোলাবাজির তথ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে অনেক জায়গায়। বাঁকুড়াতে আবার বিজেপি এলাকার তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ এনে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। হুগলির দাদপুরে কাট মানি ফেরতের দাবিতে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা হয়।

বুধবার বীরভূমের ইলামবাজারে একটি আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের বুথ সভাপতি ও পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ হয়। পুলিশ এসে তাঁদের ঘেরাও মুক্ত করে।

কাটমানি ও তোলাবাজিতে যুক্ত নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূলের অন্দরে। অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, এ ধরনের  ঘটনায় ইন্ধন জোগানো নেতাদের বিরুদ্ধেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন নেতৃত্বের একাংশ। বাঁকুড়ার বড়জোড়ার গদারডিহি পঞ্চায়েতে স্মারকলিপি দিয়ে বিজেপি অভিযোগ করেছে, সরকারি গৃহনির্মাণ প্রকল্পের প্রাপকদের কাছ থেকে তৃণমূল নেতারা তোলা আদায় করেছেন।

হুগলির চুঁচুড়ায় টোটো থেকে প্রতিদিন তোলা আদায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন চালকেরা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে তাঁরা জানিয়েছেন, ‘‘টাকা ফেরত পাব না জানি। তবে আর তোলা দেব না।’’