• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ফের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে! গরম পিচের ট্যাঙ্কার উল্টে মৃত ২ শিশু-সহ ৭

Accident
দুর্ঘটনার পর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি।—নিজস্ব চিত্র

আবারও সেই দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। আবারও এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দ্রুতগতিতে ওভারটেক করতে যাওয়া প্রাইভেট কারের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ল  গরম পিচের ট্যাঙ্কার। গাড়ির উপর উপচে পড়ল গরম পিচ। ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যু হল তিন মহিলা ও দুই শিশু-সহ সাত জনের।

বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের রথতলায়। পুলিশ সূত্রে খবর, চালক-সহ সাত জনকে নিয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে আসানসোলের দিকে দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল ওই চার চাকার গাড়িটি। এই সময় সামনের একটি গাড়িকে ওভারটেক করে সেটি। পিছনেই ছিল পিচ ভর্তি ট্যাঙ্কারটি। হঠাৎ চার চাকার গাড়িটি সামনে চলে আসায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে পাশের ডিভাইডারে উঠে পড়ে পিচের গাড়িটি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিচের ট্যাঙ্করটি উল্টে যায় গাড়িটির উপর। গরম পিচের নীচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাত জনের। মৃতরা হলেন রাজন কুমার(৪২), রেশমি সিংহ(৩৩), রিয়া(১৩), অন্বেষা সিংহ(৮), আরভ সিংহ, শেষনাথ সিংহ(৬০) এবং নির্মলা সিংহ(৫৮)। পুলিশ সূত্রে খবর, এঁরা সকলেই হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

চলছে উদ্ধারকাজ।—নিজস্ব চিত্র

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বর্ধমান থানার পুলিশ। প্রথামিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্ভবত কোনও মন্দির থেকে পুজো দিয়ে ফিরছিলেন যাত্রীরা। গাড়ির মধ্যে পুজোর ফুল, ফল, প্রসাদ পাওয়া গিয়েছে। তবে গাড়িটির কোনও নম্বর প্লেট ছিল না। গাড়িটি সদ্য কেনা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘পিচের ট্যাঙ্কারের নীচে যে একটি গাড়ি চাপা পড়ে রয়েছে তা বাইরে থেকে দেখে প্রথমে আন্দাজই করা যায়নি। হঠাৎই বাচ্চার গলায়, ‘আঙ্কল বাঁচাও, আঙ্কল বাঁচাও’ চিৎকার শুনতে পাই। কিন্তু গরম পিচের তলায় গাড়িটা এমনভাবে আটকে গিয়েছিল যে বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’’

মর্মান্তিক।—নিজস্ব চিত্র

আরও পড়ুন: দরজায় বারবার ধাক্কা, খুলতেই জানালেন, ‘মাকে গলা টিপে মেরেছি’

ঘটনার পরেই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ভিড় কমাতে লাঠিচার্জ করতেও বাধ্য হয় পুলিশ। পরে সাড়ে ১১টা নাগাদ যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।গত কয়েক মাসে এই এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় চল্লিশটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ প্রশাসনের টনক নড়েনি বলেই অভিযোগ। প্রসাশনের একটা অংশ আজকের ঘটনার পর মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মোটর ভেহিকল দফতর আজকের দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়িটি নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে বেশি গতিতে যাচ্ছিল কী না, গাড়িটির অবস্থা কেমন ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। অন্য গাড়িগুলির গতিবেগ কত ছিল তাও দেখা হবে।’’ তবে বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শুভেন্দুবাবু।

কিছুদিন আগেই এই দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে-তেই মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল গায়ক কালিকাপ্রসাদের। তার কয়েক মাস আগেই এই রাস্তাতেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন