তৃণমূলের রাজনীতিতে একাধিক বদল এনেছেন ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোর। দলের অভিধানে এ বার 'ক্যাডার' শব্দও জুড়ে দিলেন তিনি। তৃণমূলের দুই দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই শব্দ ব্যবহার করতে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে দলের নীচের তলায়। কিন্তু বিধায়কদের কাছে পাঠানো নির্দেশে ‘ক্যাডার’-দেরই নাম-ফোন নম্বর চেয়ে পাঠিয়েছে ‘টিম প্রশান্ত।’

বঙ্গ-রাজনীতিতে ‘ক্যাডার’ শব্দের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে দক্ষিণপন্থী দলগুলির সাংগঠনিক বিন্যাসে ‘ক্যাডারে’র জায়গা ছিল না। এ রাজ্যে বামপন্থী দল, বিশেষ করে সিপিএমের সংগঠনেই ‘ক্যাডার’ বহুল প্রচলিত। সর্বক্ষণের প্রশিক্ষিত ও নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত এই ‘ক্যাডার’ বাহিনী সিপিএম তথা বামেদের সংগঠের প্রধান শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হত। রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে ‘ক্যাডার বাহিনী’ দুর্বল হয়েছে। তবে এখনও ‘ক্যাডারে’র অনুষঙ্গ সিপিএমের সঙ্গেই ব্যবহৃত হয়। এ বার সেই শব্দ ঢুকে গেল তৃণমূলেরও অভিধানে।

তৃণমূলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে পেশাদারি দায়িত্ব নেওয়ার পরে ভোট-কুশলী প্রশান্ত যে সব বদল এনেছেন, তার মধ্যে দলের কর্মীদের এই নতুন পরিচিতিও আছে। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘ব্যাপারটা আলাদা কিছু নয়। তবে আমরা কখনও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করি না। কারণ, দল হিসেবে তৃণমূল সিপিএম বা অন্য কমিউনিস্ট পার্টির ঘরানার নয়।’’

বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও প্রশান্ত কেন ‘ক্যাডার’দের ফোন নম্বর চান? দলীয় সূত্রে খবর, দু’টি কারণে সংগঠনের নীচের তলায় এত বিস্তৃত যোগাযোগ রাখতে চান তাঁরা। প্রধানত, কোথাও এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিকে যথেষ্ট কাজের মনে না হলে ওই ‘ক্যাডার’দের মধ্যে থেকে কাউকে বিশেয দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে একাধিক ‘ক্যাডার’কেও দায়িত্ব দিতে পারেন তাঁরা।

প্রশান্তের চিহ্নিত এই ‘ক্যাডার’ কারা, তা নিয়ে অবশ্য নিচু তলার নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে প্রশান্তের তরফে পাড়া-বৈঠকে উপস্থিত ক্যাডারের সংখ্যা ও যোগাযোগের ফোন নম্বর চাওয়ার পর থেকে। নেতারা যে সব পাড়ায় গিয়ে ঘরোয়া আলোচনায় বসবেন, সেখানে উপস্থিত ‘ক্যাডার’দের কাছ থেকেও বৈঠক সম্পর্কে তথ্য নেবে ‘টিম প্রশান্ত।’ রাজ্য জুড়ে চালু হওয়া ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ‘সফল’ করতে ‘টিম প্রশান্তে’র অন্যতম ভরসা এই ক্যাডারদের তথ্যও।