বাসের পিছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি কুকুরকে ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার বালুরঘাট-হিলি ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে চিঙ্গিশপুর রুটে হয়েছে বলে অভিযোগ। দেখতে পেয়ে কয়েক জন যুবক চলন্ত বাসটিকে থামায়। তখন কুকুরটির দেহে প্রাণ ছিল না। তাঁরা এর পর অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বালুরঘাট থানায় লিখিত আবেদন করেন। ওই পথকুকুরটিকে জীবন্ত, নাকি মৃত অবস্থায় বাসের পিছনে বাঁধা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বালুরঘাট থানা।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাসটির পিছনে কুকুরটির একটি পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। বাসটি কামারপাড়া থেকে চিঙ্গিশপুর যাচ্ছিল। রাস্তার মাঝে কোনও বাসস্টপে ওই কুকুরটিকে বেঁধে দেয়া হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান। বাসের পিছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় কুকুরটিকে প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তা ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনাটি দেখতে পেয়ে কয়েকজন যুবক প্রতিবাদ জানান। ঘটনাটির ভিডিয়ো রেকর্ডিং করেন তাঁরা। তারপর সেটি তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। বালুরঘাট শহরের পশুপ্রেমীরাও ঘটনায় যুক্ত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি কেন্দ্রের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেনকা গাঁধীর কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন।

ওই ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় অনেকে সরব হন। বালুরঘাট থানার আইসি জয়ন্ত দত্ত বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। কুকুরটিকে জীবন্ত অবস্থায় বাসের সঙ্গে বাঁধা হয়েছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে। এ দিন ওই বাসের এক কর্মীর দাবি, কারা বাসের পিছনে কুকুরটিকে বেঁধেছে, তাঁরা জানেন না। চিঙ্গিশপুর এলাকার  স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার কথায়, এলাকায় পড়ে থাকা মৃত কুকুরকে সরাতে কেউ বাসের পিছনে বেঁধে দিয়ে থাকতে পারে। এর আগে বাসের খালাসিকে ২০-৩০ টাকা দিয়ে মৃত কুকুর বেঁধে স্থানীয় মধুপুর এলাকার খাঁড়িতে ফেলে দেওয়ার একটি ঘটনার কথা সামনে আসে। জেলার এক পরিবেশপ্রেমী বিশ্বজিৎ বসাকের বক্তব্য, মৃত হলেও বাসের সঙ্গে ওইভাবে কুকুরের পা বেঁধে প্রকাশ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া যায় না। ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।