এনজেপি স্টেশনে তুলকালামের জন্য রাজ্যকেই সরাসরি দায়ী করল রেল। রেলের তদন্ত কমিটি যে প্রাথমিক রিপোর্টটি জমা দিয়েছে, তাতে দু’টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, এত পরিমাণ পরীক্ষার্থী যে ভিন রাজ্য থেকে আসবেন, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি রেলকে। দ্বিতীয়ত, গ্রুপ ডি-র ওই পরীক্ষায় হিন্দিতে প্রশ্ন ছিল না। তাই ক্ষিপ্ত ছিলেন ওই পরীক্ষার্থীরা। তারই জেরে গোলমাল হয়েছে এনজেপি-তে।

রেল-রাজ্য টানাপড়েনে এর মধ্যেই তরজা তুঙ্গে। রাজ্যের তরফে এর আগে দাবি করা হয়েছে, রেলকে গ্রুপ ডি পরীক্ষার কথা জানানো হয়েছিল। এমনকী, রেলের তরফে জেলা প্রশাসনকে পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য দু’টি কিয়স্ক বসানোর অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এই দাবিতে অস্বস্তিতে পড়ে রেল। এ বার পাল্টা যুক্তি দিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি পাঠাচ্ছে রেল। সেই চিঠির খসড়াও তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার আগেই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে তারা সরাসরি আঙুল তুলল রাজ্যের দিকে।

এ দিন আরপিএফ-এর কাটিহার ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার মহম্মদ সাকিব জানিয়ে দেন, এনজেপি-তে ট্রেনের দাবিতে বিক্ষোভকারী গ্রুপ ডি পরীক্ষার্থীদের উপর কোনও রকম লাঠিচার্জ করা হয়নি। ঘটনার পরে রেল পুলিশের দাবি ছিল, আরপিএফ জওয়ানেরা লাঠিচার্জ করাতেই বিপত্তি আরও বাড়ে। সিকিউরিটি কমিশনারের দাবি, ‘‘এনজেপি-তে বাচ্চারা কিছু গোলমাল করেছে। ছোট শিশুরা মাঝে মাঝে উপদ্রব করে। আমরা খুবই শান্ত ভাবে পরিস্থিতি সামলে দিয়েছি। কোনও লাঠিচার্জ, মারধরের প্রশ্ন নেই।’’

এ দিনই রেলের তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টটিও জমা দিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের সদরে। রেলেকে জানানো নিয়ে রাজ্য যে তথ্য দিয়েছে, তা খণ্ডন করেছে সেই রিপোর্টে রেল গোলমালের জন্য রাজ্যকেই দায়ী করেছে।

গোলমালের জন্য প্রাথমিক ভাবে দু’টি কারণ রয়েছে খসড়ায়। প্রথম, ভিন রাজ্য থেকে যে পরীক্ষার্থীরা আসবে, তার কিছুই রেলকে জানানো হয়নি। বিহারের সহর্ষ, বেগুসরাই, বারাউনি, কাটিহার, ছাপরা, মজফ্ফরপুর, মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকা থেকে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী এসেছিলেন। এই সব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রেলপথ হলেও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। রেলের তরফে দ্বিতীয় যুক্তি দেওয়া হয়েছে, হিন্দিতে প্রশ্নপত্র না আসা। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে গ্রুপ ডি নিয়োগের পরীক্ষায় হিন্দিতে প্রশ্নপত্র হয়নি। তাই ক্ষিপ্ত ছিলেন ওই পরীক্ষার্থীরা। স্টেশনে তার বহিঃপ্রকাশ হয়। এনজেপি-র স্টেশন ডিরেক্টর পার্থসারথী শীল শুধু বলেন, ‘‘তদন্তে যা উঠে এসেছে তা-ই জানানো হবে।’’

জলপাইগুড়ি জেলার এক অতিরিক্ত জেলাশাসকের মন্তব্য, ‘‘নবান্ন থেকে পূর্ব রেলকে যাবতীয় তথ্য জানানো হয়েছিল। রেল নিজেদের মধ্যে সমন্বয় না করলে আমাদের কোনও মন্তব্য করার অবকাশ নেই।’’