কিছু যাত্রী দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছেন না তৎকাল টিকিট। আর একাংশ এজেন্টের হাতে মোটা টাকা গুঁজে তৎকাল টিকিট কেটে হাসি মুখে ট্রেনে উঠছেন। তবে এই হাসি দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে। ভুয়ো ব্যক্তিগত ইউজার আইডি থেকে কাটা টিকিট নিয়ে সফররত যাত্রীদের বিরুদ্ধে এ বার আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে রেল। ট্রেন সফরে বিপদ হলে বিমার টাকা পাওয়াও সহজ হবে না।

ই-টিকিটের কালোবাজারির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হ্যাকিং সফটওয়্যার ‘রেড মির্চি’র কথা জানা যায় বছরখানেক আগেই। সেই সূত্রে এখনও ধরপাকড় চলছে। তবে এই সফটওয়্যার ইউটিউবের মাধ্যমে হাতের নাগালে থাকায় সমস্যা নির্মূল হয়নি। ফলে, হ্যাকিংও চলছে দেদার। আর বিপদ বাড়ছে ট্রেন যাত্রীদের।

রেল সূত্রে খবর, আইআরসিটিসি-র অ্যাকাউন্টে ভুয়ো ব্যক্তিগত ইউজার আইডি থেকে কাটা টিকিট নিয়ে ট্রেন সফরে দুর্ঘটনা ঘটলে বিমার টাকা পেতে সমস্যা হবে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষও বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কেউ পরিজন বা পরিচিতের জন্য ই-টিকিট কাটতে পারেন। তাতে বিমার টাকা মিলবে। কিন্তু যদি সেই টিকিট নিয়ে ব্যবসায়িক লেনদেন হয়, তবে বিমার টাকা পেতে অসুবিধা হবে।’’ 

তা ছাড়া, টিটিই-র হাতে ধরা পড়লে বাজেয়াপ্ত হবে ভুয়ো টিকিট। সে ক্ষেত্রে ওই টিকিটে সংশ্লিষ্ট যাত্রী আর ট্রেনে যাত্রাও করতে পারবেন না। খড়্গপুরে রেলের সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি ম্যানেজার অশোককুয়ার রায় বলেন, “বেআইনিভাবে তৎকাল টিকিট কাটায় এজেন্টদের পাশাপাশি ওই টিকিট নিয়ে সফররত যাত্রীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।”

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একটি তৎকাল টিকিট পেতেই যেখানে যাত্রীদের কালঘাম ছোটে, সেখানে আইআরসিটিসি-র একাধিক ব্যক্তিগত ইউজার আইডি-র মাধ্যমে একের পর এক তৎকাল টিকিট বুক হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ হয় রেল কর্তৃপক্ষের। তদন্তে নেমে রেলের অপরাধদমন শাখা জানতে পারে, রেলের টিকিট এজেন্ট ও অন্য এজেন্টরা হ্যাকিং সফটওয়্যার ‘রেড মির্চি’র সাহায্যে আগে থেকেই তৎকাল টিকিটের ফর্ম পূরণ করে রাখছেন। টিকিট কাটার নির্দিষ্ট সময় চালু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বুক হয়ে যাচ্ছে একাধিক তৎকাল টিকিট। তারপর সেই টিকিট নিয়ে চলছে কালোবাজারি।