সাঁতরাগাছি স্টেশনে ফুটব্রিজে দুর্ঘটনার কারণ জানতে রেলের আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটির তরফে দুর্ঘটনার দিন রেলের আধিকারিক এবং কর্মীরা ছাড়াও রেলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা কে, কোথায়, কোন দায়িত্বে ছিলেন তা লিখিত ভাবে প্রত্যেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দুর্ঘটনার দিন প্ল্যাটফর্ম এবং ফুটব্রিজে লাগানো সিসি ক্যামেরা কাজ না করায় যাত্রীদের থেকেও দুর্ঘটনার সময়ের খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেল। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নথিভুক্ত করবে রেল। 

দুর্ঘটনার ঠিক আগে ঠাসাঠাসি ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির ব্রিজ ভেঙে পড়া নিয়ে চিৎকার করাকেই দূষছেন যাত্রীদের একাংশ। রেলপুলিশ এ নিয়ে মামলা করলেও এখনও ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়নি। ফলে ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক নিরূপণ করতে যাত্রীদের বয়ানকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রেলের তদন্তকারী আধিকারিকরা। দিন দশেকের মধ্যে কমিটির তরফে দুর্ঘটনার কারণ সংক্রান্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা। 

গত দু’দিন ধরে সাঁতরাগাছি স্টেশনের ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। এ দিন সকালে সাঁতরাগাছি স্টেশনের অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যান দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার পূর্ণেন্দুশেখর মিশ্র। ফুটব্রিজ এবং স্টেশনের পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগের কথা এ দিন স্বীকার করে নেন পূর্ণেন্দুবাবু। তিনি বলেন,“সময়ের বিচারে স্টেশনের পরিকাঠামো পিছিয়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ” 

এ দিন রেলের তরফে একাধিক পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। দীপাবলির আগে সাঁতরাগাছি স্টেশনের ফুটব্রিজে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জিএম। ফুটব্রিজে ভিড় বাড়লেই যাতে আগাম খবর পেতেই ওই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে রেল সূত্রে খবর। ফুটব্রিজ এবং প্ল্যাটফর্মে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সব সময় যথেষ্ট সংখ্যায় রক্ষী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

সাঁতরাগাছি স্টেশনে পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় ১২ মিটার চওড়া দুটি ফুটব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তার মধ্যে একটির কাজ আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন জিএম। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনের দু’প্রান্তেই টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে রেল। স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিন বসানোরও কথা।