আড়াই বছর আগে সারদা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। এত দিন পরে রোজ ভ্যালি মামলাতেও সেই রমেশ গাঁধীকে গ্রেফতার করা হল। সিবিআই সূত্রের খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রমেশকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভুবনেশ্বরে। সেখানেও অবশ্য অসুস্থতার কারণে তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছে স্থানীয় নার্সিংহোমে। তাঁকে জেরা করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে কিছু প্রভাবশালীর যোগসাজশের কথাও।

সিবিআই সূত্রের খবর, গত মাসের মাঝামাঝি রোজ ভ্যালি মামলায় আচমকাই উঠে আসে রমেশের নাম। সিবিআই সেই মামলায় রমেশের নাম যোগ করে ভুবনেশ্বর হাইকোর্টে যায়। বলা হয়, রোজ ভ্যালি মামলায় রমেশকে ভুবনেশ্বরে এনে জেরা করা দরকার। হাইকোর্ট অনুমতি দেওয়ার পরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে তাঁকে ভুবনেশ্বর নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সিবিআই জানিয়েছে, এই প্রথম কাউকে সারদা এবং রোজ ভ্যালি— দু’টি মামলাতেই গ্রেফতার করা হল। দু’টি সংস্থার বিরুদ্ধে আলাদা ভাবে মামলা চালানো হচ্ছে। সিবিআইয়ের দু’টি আলাদা দল মামলার তদন্ত করছে। রোজ ভ্যালির মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে মূলত ভুবনেশ্বর থেকে। সারদা কলকাতা থেকে। দু’টি মামলাতেই বেশ কিছু প্রভাবশালী, সাংসদ, বিধায়ক গ্রেফতার হয়েছেন।

এক সিবিআই-কর্তার কথায়, এর আগে শিবনারায়ণ দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাঁর সঙ্গে দু’টি বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থার যোগ ছিল। একটি সারদা, অন্যটি সিলিকন ভ্যালি। কিন্তু রমেশ গাঁধীর সামাজিক অবস্থান ও গুরুত্ব, দুই-ই অনেক বেশি। প্রভাবশালীদের তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষে রয়েছে।

২০১৫ সালে রমেশকে প্রথম গ্রেফতার করে সিবিআই। অভিযোগ, সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধারের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সারদার ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করেছেন। গত আড়াই বছরে তিনি এ রাজ্যের জেলে যতটা থেকেছেন, তার চেয়ে বেশি থেকেছেন হাসপাতালে ও নার্সিংহোমে। তিনি বারবার জামিনের আর্জি জানালেও তা খারিজ হয়েছে।