কর্মীর অভাবে বন্ধ কিছু গ্রন্থাগার। কোথাও এক জন গ্রন্থগারিক সপ্তাহে দু’দিন করে তিনটি পাঠাগার সামলাচ্ছেন। এমনই হাল রাজ্যের বিভিন্ন পাঠাগারের। কারণ, ১০ বছর ধরে গ্রন্থাগারে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এমনকি যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের শূন্য পদেও নিয়োগ হয়নি।

রাজ্যে ২৪৮০টি পাঠাগার রয়েছে। ২০০৯ সালের পর থেকে নিয়োগ না-হওয়ায় কর্মীর অভাবে প্রায় ৭০০টি পাঠাগার বন্ধ রয়েছে গ্রন্থাগারিকেরা জানাচ্ছেন। মোট ৫৬০০টি পদের মধ্যে ফাঁকা প্রায় চার হাজার। তবে গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দাবি, রাজ্যে এখন ৩২৫টি পাঠাগার বন্ধ এবং ৩২০০টি শূন্য পদ রয়েছে। ‘‘এই সমস্যা এবং কর্মী নিয়োগের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে সরকার,’’ আশ্বাস গ্রন্থাগারমন্ত্রীর।

মন্ত্রী যা-ই বলুন, গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষ বইপত্র পড়তে পারছেন না। পাঠাগার বন্ধ হয়ে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রচুর দুষ্প্রাপ্য বই। সরকারি নিয়ম হল, কলকাতা ও জেলা স্তরের গ্রন্থাগারে চার ও গ্রামীণ গ্রন্থাগারে দু’জন করে কর্মী থাকবেন। কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এক জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে সপ্তাহে দু’দিন পালা করে তিনটি পাঠাগার খুলে পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে।

পাঠাগারে বেহাল দশা কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫৫টি পাঠাগারের মধ্যে বেশ কয়েকটি বন্ধ। উত্তর ২৪ পরগনায় ২২১টি গ্রন্থাগারের মধ্যে ৩৭টি বন্ধ এবং‌ ৫২৬টি পদে ১৭০ জন কর্মী রয়েছেন। বাকি পদগুলো শূন্য। বেহাল অবস্থা দমদমের বিদ্যুৎ চক্র, ইছাপুরের নবাবগঞ্জ, দেগঙ্গার রায়পুর মিলন পাঠাগার, বসিরহাটের নবারুণ সঙ্ঘের মতো বহু পাঠাগারের। কোনও বন্ধ পাঠাগার আবার আবর্জনা, জঞ্জালে ভরে গিয়েছে। রাতের অন্ধকারে সেখানে নেশাড়ুরা ঘাঁটি গাড়ে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

‘পশ্চিমবঙ্গ সাধারণের অবসরপ্রাপ্ত গ্রন্থাগার কর্মী সমিতির’ রাজ্য সম্পাদক তরুণ বসু জানান, পাঠাগারে বই বিলি, পড়াশোনা ছাড়াও নানা অনুষ্ঠান করার বিধিও রয়েছে। তাতে এলাকায় সাংস্কৃতিক চেতনাও বাড়ে। তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু সবই বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। উল্টে বন্ধ পাঠাগারে চলছে অসামাজিক কাজকর্ম।’’