রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের গুলি চলার অভিযোগ উঠল। মারধরে আহত হলেন ছাত্র পরিষদের এক সদস্য। অভিযোগ, শাসক দলের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি-র সদস্যেরা তাঁকে মারধর করেছেন।

ছাত্র পরিষদের এক সমর্থক অর্ঘ্য কররায় রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি জমা দিতে আসেন শুক্রবার বেলা ১২টা নাগাদ। তিনি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষ আর রাজ্য সম্পাদক প্রসেনজিৎ সাহার ঘনিষ্ঠ। তখন কলেজের ক্যান্টিনের সামনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দশ বারো জন সমর্থক তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে অর্ঘ্যবাবুর মাথার পিছনে মারা হয়েছে। লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে তাঁর ডান পায়ে। অর্ঘ্যর দাবি, ‘‘মারধর করার সময় টিএমসিপি-র ওই কর্মীরা বারবার আমাকে বলছিল ‘কেন টিএমসিপি-তে যোগ দিসনি। তাই মার খাচ্ছিস।’ ওদের মারে আমার মাথা ফেটে যায়।’’ তিনি মাটিতে পড়ে যান। বাইরে থেকে সে সময়ে অর্ঘ্যের বন্ধুরা ছুটে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সে সময় ছাত্র পরিষদের কর্মীরা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। তাই দেখে টিএমসিপি-র কর্মীরা পালিয়ে যান। ছাত্র পরিষদের কর্মীরা এরপরে অর্ঘ্যবাবুকে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। হাসপাতালে তাঁর মাথায় একটি সেলাইও পড়েছে। তারপরে বন্ড দিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। অর্ঘ্যবাবু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি শাখা কমিটির সহ সভাপতি অনুপ করও বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে চোট নিয়ে হাসপাতালে যান। 


জখম অর্ঘ্য কররায়।

ছাত্র পরিষদের নব্যেন্দুবাবুর দাবি, ‘‘অর্ঘ্যকে যখন মারধর করা হচ্ছিল, তখন গুলির শব্দও পেয়েছেন অনেকে। টিএমসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই ফের গুলি চালালো।’’ নব্যেন্দুবাবুর দাবি, ‘‘এর আগেও একাধিকবার ছাত্র পরিষদের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরের মধ্যেই মারধর করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করেছেন টিএমসিপি-র সমর্থকেরা। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। তাই আমাদের পুলিশের উপরে কোনও ভরসা নেই।’’

অর্ঘ্যবাবুর বাবা পিনাকী কররায়ের বক্তব্য, ‘‘ছেলের মাথায় লেগেছে। দুশ্চিন্তায় আছি। ওর চিকিৎসা করাই আগে দরকার। তারপরে পুলিশে অভিযোগ করব।’’

পড়ুন: 

টাকা চেয়ে কলেজে তাণ্ডব টিএমসিপি-র
রায়গঞ্জে মার প্রাথমিকের পরিদর্শককে

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি শাখা কমিটির সভাপতি দীপক মিশ্রের অবশ্য পাল্টা দাবি, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই ছাত্র পরিষদ সদস্যকে কারা মারধর করেছে, তা-ও আমরা জানি না। বরং আমরা ওকে বাঁচাতেই গিয়েছিলাম। তখন অনুপের হাতেও লাগে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘অর্ঘ্য সম্ভবত বাইরে কোনও গোলমালে জড়িয়ে পড়েছিল। তার জেরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে তাঁকে মারা হয়েছে।’’ অর্ঘ্য অবশ্য এ সবই ভিত্তিহীন ও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই কেমন করে এই কাণ্ড ঘটল? বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনিল ভুঁইমালি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরটি বেশ বড়। তার মধ্যে পুলিশও রয়েছে। কিন্তু এ দিন আচমকা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় কেউ কোনও প্রতিরোধ করতে পারেননি।’’ অনিলবাবু বলেন, ‘‘কিছু বহিরাগত এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, ‘‘গুলি চলেনি। তা হলে অন্যরাও সেই শব্দ শুনতে পেতেন। কলেজ ওই ঘটনার পরে স্বাভাবিকই রয়েছে।’’

উত্তর দিনাজপুরের ডিএসপি শুভেন্দু মজুমদারের বক্তব্য, ‘‘এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। গুলির খোলের খোঁজ চলছে। ছাত্রদের সঙ্গেও আমরা কথা বলছি।’’

এই ঘটনায় অভিভাবকেরা খুবই উদ্বিগ্ন। পরপর বেশ কয়েকবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র পরিষদ ও টিএলসিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হল।

—নিজস্ব চিত্র।