যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বভারতীয় বেতনক্রমের দাবিতে সোমবার কলকাতার রাজপথে অবস্থান-বিক্ষোভে নেমেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে। তার জেরে ব্যাপক যানজট হয় মধ্য কলকাতায়। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। 

অভিযোগ, পুলিশ লাঠিও চালায়। লাঠি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

রাত পর্যন্ত রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান চালিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষকদের অবস্থান-বিক্ষোভের উদ্যোক্তা উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ওই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বেতনবৈষম্য দূর করার কথা বললেও তাঁর কাছ থেকে কোনও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি। যত ক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাচ্ছি, তত ক্ষণ অবস্থান-বিক্ষোভ চলবে।’’ শিক্ষকদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে বলে রাজ্যের শিক্ষা দফতর থেকে আশ্বাস আসে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ। তার পরে অবস্থানে ইতি টানেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ শিক্ষক-শিক্ষিকারা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল করে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে যান। পৃথার দাবি, ৭০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘গ্রেড পে’ ২৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৩২০০ টাকা করার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু তাঁদের দাবি, এই গ্রেড পে সর্বভারতীয় প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে-র মতো ৪২০০ টাকা করতে হবে। 

এ দিন বিশাল মিছিল রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছনোর পরে পৃথা এবং অন্য কয়েক জন প্রতিনিধি বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে যান। পৃথা বলেন, ‘‘বিধানসভা অভিযানের সময় পুলিশ আমাদের গ্রেফতার করে। তার পরে শুধু আমাকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। আমি বিধানসভায় গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবুর সঙ্গে কথা বলি।’’

এ দিকে, বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপরে আলোচনা চলাকালীন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়লেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনের স্কেল বাড়েনি। ওই স্কেল বাড়ানোর যুক্তিসঙ্গত দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে এসেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের উপরে নিদারুণ আক্রমণ হয়েছে। পুলিশ 

লাঠি চালিয়েছে। চালিয়েছে জলকামানও। সরকার এই শিক্ষকদের বিষয়ে অবিলম্বে দায়িত্ব পালন না-করলে আমরা তাঁদের আন্দোলনের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বাধ্য হব।’’ বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বিধানসভায় বলেন, ‘‘শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের এ-রকম আচরণ নিন্দনীয়।’’ পরে বিধানসভার প্রেস কর্নারে সুজনবাবু বলেন, ‘‘সরকারকে মাথা নিচু করতেই হবে। ওই শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য। অন্যান্য রাজ্যে তাঁরা বর্ধিত স্কেল পেলে এখানে পাবেন না কেন?’’ 

বিধানসভায় নিজের ঘরে বসে শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবু বলেন, ‘‘আমি আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের জানিয়েছি, তাঁদের বিষয়ের সঙ্গে আমরা সহমত। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশিকা বেরোতে সময় লাগবে।’’ 

আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরে এ দিনের ‘হামলা’র নিন্দা করেছেন এবিপিটিএ-র সাধারণ সম্পাদক সমর চক্রবর্তী, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার প্রমুখ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।