বিমানবন্দরের সোনা-কাণ্ডে তাঁকে তলব করে সমন জারি করেছে শুল্ক দফতর। তবে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনই ওই দফতরের স্ট্র্যান্ড রোডের কার্যালয় অর্থাৎ কাস্টমস হাউসে হাজির হতে হবে না। সোমবার ওই সমন সংক্রান্ত আপিল মামলার শুনানিতে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি মহম্মদ নিজামুদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ। রুজিরা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী।

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ গত সপ্তাহে নির্দেশ দিয়েছিলেন, রুজিরাকে এ দিন শুল্ক দফতরে হাজির হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শুল্ক দফতরকে নির্দেশ দেন, রুজিরার বিরুদ্ধে আপাতত কড়া আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। হাজিরা নিয়ে বিচারপতি ভরদ্বাজ যে-নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল মামলা করেন রুজিরা।

ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন জানায়, কোনও কারণ ছাড়াই শুল্ক দফতরে হাজির হওয়ার জন্য রুজিরাকে নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চ। পুনরায় শুনানির জন্য মামলাটি বিচারপতি ভরদ্বাজের আদালতেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রুজিরা ১৫ মার্চ গভীর রাতের বিমানে ব্যাঙ্কক থেকে বিধিবহির্ভূত ভাবে সোনা এনেছেন বলে অভিযোগ করেছে শুল্ক দফতর। তার ভিত্তিতে ২৬ মার্চ রুজিরাকে একটি সমন পাঠায় ওই দফতর। তাতে বলা হয়, ৮ এপ্রিল বেলা ১২টায় রুজিরাকে কাস্টমস হাউসের কার্যালয়ে হাজির হতে হবে। সেই সমনের উপরে স্থগিতাদেশ চেয়ে বিচারপতি ভরদ্বাজের আদালতে মামলা করেছিলেন রুজিরা।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও কারণ ছাড়াই মামলার আবেদনকারিণীকে শুল্ক দফতরে হাজির হতে বলেছেন বিচারপতি ভরদ্বাজ। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে প্রশ্ন উঠে এসেছে, ১৫ মার্চ রাতে বিমানবন্দরে রুজিরার ব্যাগ তল্লাশির সময় শুল্ক দফতর যদি বাধাই পেয়ে থাকে, বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ জানাতে তারা সাত দিন সময় নিল কেন? কেনই বা অভিযোগ জানানোর চার দিন পরে সমন পাঠানো হল?

ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন জানিয়েছে, মে মাসের মধ্যে বিচারপতি ভরদ্বাজের আদালতে হলফনামা পেশ করে দু’পক্ষকেই নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। ওই আদালত ২০ জুন ফের মামলাটি শুনবে। সমনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মামলার ফয়সালার উপরে। মামলার ফল শুল্ক দফতরের পক্ষে গেলে ৩১ জুলাইয়ের পরে তারা ওই সমন রূপায়ণ করবে।