বিধাননগর পুরসভার মেয়র-পদে ইস্তফা দেওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার সোজা প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন-মঞ্চে পৌঁছে গেলেন সব্যসাচী দত্ত। অনশন-মঞ্চে উঠে তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষকদের এই আন্দোলনে আমার নৈতিক সমর্থক আছে।’’

উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের এই অনশন-মঞ্চে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ শিক্ষাকর্তাদের একহাত নেন সব্যসাচীবাবু। তিনি বলেন, ‘‘অনশন-মঞ্চ থেকে বিকাশ ভবন হেঁটে গেলে চার মিনিট লাগে। ওখানে শিক্ষামন্ত্রী, আধিকারিকেরা বসে আছেন ঠান্ডা ঘরে। আর তাঁদেরই শিক্ষকেরা রাস্তায় বসে অনশন করছেন! একটুও কি মানবিকতা নেই? এঁদের ডেকে তো কথা বলতে পারেন। এখানে শাসনের নামে শোষণ হচ্ছে। আমরা কোনও দিন ভাবিনি, তৃণমূল থেকে এই ধরনের শোষণ হবে।’’

সব্যসাচীবাবু জানান, শিক্ষকেরা আন্দোলন করছেন নৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে। অনশন-মঞ্চে প্রশাসন তাঁদের জন্য জল বা শৌচালয়ের ব্যবস্থা করেনি। অথচ উল্টো দিকে একুশে জুলাইয়ের জন্য এলাহি আয়োজন চলছে। সব্যসাচীবাবু আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এক জন যোদ্ধা মরার আগে কখনও মরে না। এই কথাটা মনে রাখবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় শ্রমিকদের পাশে, কৃষকদের পাশে ছুটে যেতেন। কী পরিহাস! আজ আর সেটা দেখা যাচ্ছে না। এত বদলে যাব আমরা, ভাবতে পারি না।’’

অনশন-মঞ্চে নিজের পদ্যাতগের প্রসঙ্গও তোলেন সব্যসাচীবাবু। তিনি বলেন, ‘‘যদি মানুষের পাশে থাকি, মানুষই আমাকে সেই জায়গা ফিরিয়ে দেবে। প্রশাসন যদি মেরে তোলার চেষ্টা করে, যদি শিক্ষকেরা আক্রান্ত হন, আমি তাঁদের পাশে দাঁড়াব।’’

ন্যায্য বেতনের দাবিতে ১২ জুলাই থেকে সল্টলেকে বিকাশ ভবনের কাছে অনশন-অবস্থান বিক্ষোভ করছে উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের নেত্রী পৃথা বিশ্বাস বলেন, ‘‘অনশনকারীরা শারীরিক ভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পড়ছেন। এ দিন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনজন। তবে দাবি পূরণের আগে পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।’’

অন্য দিকে, এ দিনই ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা। সকালে মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা। আন্দোলনকারীরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, ২১ জুলাইয়ের সভার পরেই তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরে, ২৯ দিনের মাথায় উঠে গিয়েছিল এসএসসি-র পরীক্ষা পাশ করা চাকরিপ্রার্থীদের অনশন। ২৮ মার্চ প্রেস ক্লাবের পাশে অনশন-মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জুনের প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। এসএসসি-র চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ জুন কেটে গিয়েছে। এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। এই আন্দোলনের নেত্রী তানিয়া শেঠ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে আমরা অনশন তুলে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের চাকরি হল না। আমাদের দাবিদাওয়া যদি না-মেটে, তা হলে আমরা আবার আরও বড় আন্দোলনে নামব।’’