কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার জন্য আদালতের অনুমতি চাইতে চলেছে সিবিআই।

সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআই ও রাজ্য সরকারের দ্বৈরথ গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত দু’পক্ষকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে একাধিক বার শুনানি করেছে। এর আগে রাজীব কুমার-সহ কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েক জন পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে সিবিআই। কিন্তু সিবিআইয়ের অভিযোগ— রাজীব কুমার তাদের মুখোমুখি হতে রাজি হননি। এই পরিস্থিতিতে সিবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত অফিসার রাকেশ আস্থানা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা সেরেছেন। সিবিআই সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনার না এলে আদালতে গিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অনুমতি চাইবেন তাঁরা।

প্রশ্ন হচ্ছে, সিবিআই কোন আদালতের দ্বারস্থ হবে? সুপ্রিম কোর্ট না হাইকোর্ট? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল— রাজীব কুমার না-এলে বা রাজ্য পুলিশ তদন্তে সহযোগিতা না করলে সিবিআইকে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে। সিবিআই অবশ্য এখনও চেষ্টা করছে যাতে সুপ্রিম কোর্টে এ ব্যাপারে আবেদনের সুযোগ মেলে। সেটা না হলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে তারা।

সিবিআই সূত্র বলছে, সারদা মামলায় রাজীব কুমারকে প্রথম সমন পাঠানো হয় ২০১৭-র ১৬ অগস্ট। রাজীব সে সময়ে জানিয়েছিলেন, ছট ও দুর্গাপুজো থাকায় তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না। পুজোর পরে ২৩ নভেম্বর ফের রাজীব কুমারকে ডাকা হয়। কিন্তু আসেননি তিনি। পাল্টা ওই ২৩ নভেম্বর সিবিআইয়ের ডিএসপি ব্রতীন ঘোষালকে ডেকে পাঠিয়ে বালিগঞ্জ থানার পুলিশ ৩ অগস্ট রোজ ভ্যালির ক্রোম হোটেলে ভাঙচুরের একটি ঘটনায় জেরা করে। অভিযোগ, তাতে সন্তুষ্ট না হয় সিবিআইয়ের যুগ্ম ডিরেক্টর কৃষ্ণ ও বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানাকে ই-মেল করে কুড়িটি প্রশ্নের জবাব চায় কলকাতা পুলিশ। সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করে, রাজীব কুমারকে ডেকে পাঠানোর পাল্টা হিসাবে কলকাতা পুলিশ তাদের অফিসারদের ডেকে পাঠিয়ে হেনস্থা করছে। সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা পুলিশকে জানিয়ে দেয়, এ ভাবে সিবিআইয়ের অফিসারদের ডেকে পাঠানো যাবে না।

তবে সিবিআইকে ছাড় দিতে রাজি নয় রাজ্য সরকারও। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বলের পরামর্শ নিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। কমিশনার জিজ্ঞাসাবাদে হাজির না-হলে তার আইনগত দিকগুলি কী হতে পারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিবিআই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তার আইনগত বৈধতা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

সিবিআইয়ের দ্বিতীয় ব্যক্তি গুজরাত ক্যাডারের অফিসার রাকেশ আস্থানার সঙ্গে রাজীব কুমারের লড়াই নতুন নয়। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের প্রিয়পাত্র আস্থানাকে সিবিআইয়ের পরবর্তী প্রধান করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। রাজীব কুমারও ভিন্ন একটি বিষয়ে আস্থানার বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন। কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, আস্থানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করার কথা তারাও ভাবছে। সুতরাং ইটের জবাব পাটকেলে দিতে তৈরি হচ্ছে রাজ্য সরকারও। তবে এ বিষয়ে রাজীব কুমারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে এসএমএস করা হলেও জবাব আসেনি।