বাম আমলের শেষ ভাগে কয়েকটি অধিবেশনের তথ্য ও বিবরণের নথির খোঁজ শুরু করেছে বিধানসভার সচিবালয়। জানা গিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ের অধিবেশনের নথি বই আকারে প্রকাশের কাজে হাত দিতে গিয়েই কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন,  ওই সব নথি পাওয়া যাচ্ছে না। স্পিকারের দফতর থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে ওই নথির খোঁজ করতে বলা হয়েছে।

কোন সময় পর্যন্ত এই নথি পাওয়া যায়নি, তা এখনও নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। তবে এই পর্বেই সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০০০ সাল থেকে দু’টি বাম সরকার পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় ছিল। সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে বিধানসভার কাজে।

এ ছাড়া, ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনও সরাসরি বিধানসভার অধিবেশনে উঠে এসেছিল। পরিষদীয় রীতি মেনেই শাসক হিসাবে তৃণমূল শিবির ও বিরোধী হিসাবে বামেদের প্রশ্নোত্তর, বিতর্কও আছে ওই সময়ের নথিতে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘আগে কখনও এরকম হয়নি। ওই সময়ের নথি না পাওয়া গেলে তার রেকর্ড বিধানসভার কাছে থাকবে না।’’

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘২০০৩ সালের অধিবেশনের নথি ( ভল্যুম) এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। খোঁজ চলছে।’’ তবে তাঁর কথায়, ‘‘যে সময়টা চিহ্নিত করা গিয়েছে, তা থেকে বলা যায়, ওই সময় তেমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেনি।’’

পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা অধিবেশনের সব কাজই নথিবদ্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে সেই নথির বই রাখা হয়। সম্প্রতি সেই লক্ষ্যেই ২০০০ সাল থেকে বেশ কয়েকটি অধিবেশনের নথির বই তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। তখনই জানা যায়, অধিবেশনের নথির বেশ কয়েকটির হদিস নেই। বিধানসভার সচিবালয় অবশ্য এখনও এই নথি খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েনি।