পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করে এর আগে পবনকুমার চামলিং মন্ত্রিসভা প্রস্তাব পাশ করেছিল। তাই নিয়ে আপত্তি তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গ। তার পরে বিস্তর জলও গড়িয়েছে তিস্তা দিয়ে। সিকিমে পটবদল হয়েছে। এখন সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিংহ তামাং। বুধবার শিলিগুড়িতে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাসপাতালের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেমসিংহ জানান, তাঁর সরকার এই ব্যাপারে নাক গলাবে না। তাঁর কথায়, এটি একেবারেই কেন্দ্র ও রাজ্যের বিষয়। দার্জিলিংকে সিকিমের সঙ্গে সংযুক্ত করার যে দাবি কোনও কোনও মহল থেকে উঠেছে, তা-ও খারিজ করে দিয়েছ‌েন তিনি। 

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দার্জিলিঙের বাসিন্দারা এক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আলাদা রাজ্যের দাবি তুলছেন। সেটি দেওয়া হবে কি না, তা কেন্দ্র এবং রাজ্য দেখবে। এতে আমাদের কিছু বলার নেই।’’ একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘দার্জিলিংকে সিকিমের সঙ্গে সংযুক্ত করারও কোনও ব্যাপারই নেই।’’ 

গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলাদা রাজ্যের দাবিতে অশান্তি ছড়িয়েছিল পাহাড়ে। সূত্রের খবর, তখন মোর্চার বিমলপন্থী নেতারা তৎকালীন সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সরকারের সঙ্গে কয়েক বার বৈঠক করেছিলেন। তাঁদের আলাদা রাজ্যের দাবিকে সমর্থন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন পড়শি রাজ্যের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। 

এখন প্রেমসিংহ যে কথা বলছেন, তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি মোর্চার বিমলপন্থী নেতারা। সেই দলের কার্যকরী সভাপতি লোপসান লামা বলেন, ‘‘সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন, জানা নেই। তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’’ 

প্রেমসিংহ এ দিন দার্জিলিং, সিকিমে থাকা লিম্বু, তামাং-সহ বিভিন্ন জনজাতির স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন রাজ্যে ওই জনজাতির বাসিন্দারা রয়েছেন। তাঁদের স্বীকৃতির জন্য কেন্দ্রের কাছে বলেছি।’’ পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ করা নিয়ে কেন্দ্রের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘দেশের মঙ্গলের কথা মাথায় রেখে যে সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নিয়েছে, তাকে আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। সিকিমের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা মেলে, সে ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েও দিয়েছেন।’’