আর মাত্র চার দিন। তার পরে ফের পাহাড়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তার আগে দু’দিনে মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বিমল গুরুঙ্গের গাড়ির চালক সিদ্ধান্ত বিশ্বকর্মা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী উদয় গুরুঙ্গ ও অনুপ প্রধান—ধৃত এই তিন জনকেই মঙ্গলবার রাতে তাকভর থেকে গ্রেফতার করা হয়। সিদ্ধান্তর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত এবং বাকিদের জেল হাজতের নির্দেশ হয়েছে। বুধবার রাতে দার্জিলিং সদর থানার পুলিশ কর্মী সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ৮ জুন থেকে পাহাড়কে স্তব্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন বিমল গুরুঙ্গ। তার পরে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের বন্‌ধ। সেই সময়ে তিনি পাতলেবাস ছেড়ে পালিয়ে যান। তখন তাঁর নিজস্ব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকা সিদ্ধান্ত, উদয় ও অনুপও দার্জিলিং ছাড়েন। তার পরে কখনও তাঁরা নেপালে, কখনও সিকিমে ছিলেন। সম্প্রতি খবর আসে, তিন জন পাতলেবাস লাগোয়া তাকভর, জিং চা বাগান এলাকায় রয়েছেন। রাতে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশ। এ দিন ধৃতদের আইনজীবী বিকাশ লোহানি দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলদের ফাঁসানো হয়েছে। সরকারি আইনজীবী সুদীপ বসুনিয়া এই প্রসঙ্গে জানান, বাসে আগুনের তদন্তে একাধিক সাক্ষীর ভিত্তিতে তিন জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাতে তিন ধৃতের মধ্যে দাওয়া তামাঙ্গ নামে এনভিএফ কর্মীর বাড়ি লেবংয়ে, কালীমানতা গুরুঙ্গ নর্থ পয়েন্টের সোম চা বাগান, রুপাল রাই বরাপাট্টাবংয়ের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, এঁরা যুব মোর্চার গুরুঙ্গপন্থী সমর্থক। দাওয়া পুলিশের গতিবিধির খবর আন্দোলনকারীদের একাংশকে দিতেন বলে অভিযোগ। আজ, বৃহস্পতিবার তাদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হবে। প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সফরে নানা রকমের গোলমাল শুরু করতে পারতেন এঁরা।