বাম আমলে তৈরি করে দেওয়া নিয়মনীতি মেনেই এত দিন সরকারি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে কর্মীদের বদলি করা হত। সেই বদলি নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, কোনও কোনও কর্মী প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর থেকে গিয়েছেন একই জায়গায়। আবার কাউকে কর্মজীবনে বারবার বদলি হতে হয়েছে বিভিন্ন জেলায়।

গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অন্দরমহলে এই বদলি ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার জট জটিলতর হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নবান্ন-সহ নানা মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হওয়ায় বিদ্যুৎ দফতর কর্মীদের জন্য নতুন একটি বদলি নীতি তৈরি করে দেয়। কিন্তু সিটু, টিএমসি-সহ বিভিন্ন কর্মী ইউনিয়নের আপত্তিতে সেই নীতি খতিয়ে দেখতে বণ্টন সংস্থা কর্তৃপক্ষকে আবার একটি কমিটি গঠন করতে হয়েছে। যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন খোদ বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

কর্মী ইউনিয়নের আপত্তি কেন?

সিটু ও টিএমসি সমর্থিত কর্মী ইউনিয়নের নেতাদের বক্তব্য, নতুন নীতিতে অনেক ফাঁক থেকে গিয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টন এলাকাকে নানা জ়োনে ভাগ করে কর্মীদের এক জ়োন থেকে অন্য জ়োনে বদলির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যা আগে সাধারণত হত না। কর্মী সংগঠনগুলির নেতাদের একাংশের বক্তব্য, বদলি কখনও কর্মীদের ‘শাস্তি’ হতে পারে না। অথচ নতুন নীতিটি অনেকটা সেই ধাঁচেরই। এক নেতার দাবি, নয়া নিয়মে প্রতিটি জ়োনে কর্মীদের পাঁচ বছর করে থাকতে হবে। তার আগে বদলির জন্য আবেদনও করা যাবে না। নতুন চাকরিতে ঢুকলে প্রথমেই তাঁকে দূরে কোথাও কাজে যোগ দিতে হবে। পদোন্নতি হলেই জ়োন বদলে যাবে। এ ছাড়াও এমন অনেক প্রস্তাব রয়েছে, যা কর্মীদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। বণ্টন সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, নতুন বদলি নীতি নিয়ে ইউনিয়নগুলি আপত্তি তুলেছে বলেই কমিটি গঠন করে তাদের মতামত চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে বিদ্যুৎমন্ত্রীকেও।

সাত সদস্যের নতুন কমিটি গড়া হয়েছে বণ্টন সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্তাকে মাথায় রেখে। কমিটিকে জুনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য সরকারি সংস্থার বদলি নীতি দেখে, ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে এবং কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য মুখ্যসচিবকে মাথায় রেখে যে-কমিটি গড়ে দিয়েছেন, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নতুন কমিটির সুপারিশ তাদের কাছে পাঠানো হবে।

বদলি নীতি খতিয়ে দেখতে গড়া কমিটি নিয়ে তাঁর আপত্তি-অসন্তোষ কেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী সেই বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ দফতর একটা নীতি তৈরি করে দিয়েছে। সেই নীতিটি খতিয়ে দেখতে ফের কমিটি তৈরি করতে হল কেন, তা বণ্টন সংস্থা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছি।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।